সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশের স্কুল স্তরের পাঠক্রমে এবার বিরাট রদবদল ঘটাল সিবিএসসি বোর্ড (CBSE Borad)। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে নবম শ্রেণীতে ওঠা সমস্ত পড়ুয়াকেই তিনটি ভাষা পড়তে হবে। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, দশম শ্রেণীর ফাইনাল বোর্ড পরীক্ষায় ই তৃতীয় ভাষার কোনও পরীক্ষা দিতে হবে না পড়ুয়াদের। কোন কোন ভাষা? জানুন বিস্তারিত।
নতুন নিয়মে কী কী শর্ত রয়েছে?
ন্যাশনাল কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক মেনে তৈরি করা নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, নির্বাচিত তিনটি ভাষার মধ্যে অন্তত দু’টি ভাষা অবশ্যই ভারতীয় মূলের হতে হবে। আর পরবর্তীতে পড়ুয়া যদি কোনও বিশেষ ভাষা যেমন ফরাসি, জার্মান, চাইনা ইত্যাদি নিতে চায়, তাহলে তা কেবলমাত্র তৃতীয় ভাষা হিসেবেই অথবা অতিরিক্ত চতুর্থ ভাষা হিসেবে নেওয়া যাবে। বাকি দু’টি ভাষা অবশ্যই ভারতীয় হতে হবে।
তবে পড়ুয়াদের উপর মানসিক চাপ কমানোর জন্য বোর্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তৃতীয় ভাষার মূল্যায়ন হবে সম্পূর্ণ স্কুল স্তরেই। এর জন্য কোনও রকম বোর্ড পরীক্ষা হবে না। স্কুলের ইন্টার্নাল অ্যাসেসমেন্ট বা অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের মাধ্যমেই তার নম্বর দেওয়া হবে। আর পড়ুয়ার প্রাপ্ত গ্রেড বা পারফরমেন্স সিবিএসই চূড়ান্ত সার্টিফিকেট উল্লেখ করা থাকবে। এমনকি তৃতীয় ভাষার পারফরমেন্সের কারণে কোনও পড়ুয়াকে দশম শ্রেণীর বোর্ড পরীক্ষা দেওয়া থেকে আটকানো যাবে না।
তবে নতুন এই নিয়ম দ্রুত কার্যকর করতে গিয়ে যাতে স্কুলগুলির কোনও রকম সমস্যা না হয়, তার জন্য কিছু অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, মাধ্যমিক স্তরের জন্য নির্দিষ্ট পাঠ্যবই তৈরি না হওয়া পর্যন্ত নবম শ্রেণীর পড়ুয়ারা আপাতত ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য নির্ধারিত তৃতীয় ভাষার বইগুলি ব্যবহার করতে পারবে। দ্বিতীয়ত, ভাষা শিক্ষকের ঘাটতি মেটাতে স্কুলগুলি পার্শ্ববর্তী স্কুলের শিক্ষক শেয়ার করতে পারবে। এমনকি অনলাইন ক্লাসের সাহায্য নিতে পারবে। অথবা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বা যোগ্য পোস্ট গ্রাজুয়েট প্রার্থীদের চুক্তি ভিত্তিতে নিয়োগ করতে পারবে। আর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু এবং প্রবাসী ভারতীয় বা বিদেশি পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে বোর্ড আবেদনের ভিত্তিতে বিশেষ ছাড়ও দেওয়া যাবে।
The Central Board of Secondary Education (CBSE) has made the study of three languages compulsory for students from Class IX beginning July 1, 2026, while clarifying that there will be no Board examination for the third language (R3) in Class X.
In a circular issued on May 15,… pic.twitter.com/D1jlOPbqXQ
— ANI (@ANI) May 16, 2026
আরও পড়ুন: ৫ দিনে ৪ সন্তানের প্রসব! আমিনা বিবির কাণ্ডে হতবাক চিকিৎসকরাও
এক্ষেত্রে আরও উল্লেখ করার বিষয়, উচ্চ মাধ্যমিক বা দ্বাদশ শ্রেণীর ফলাফল প্রকাশের পর পদার্থবিদ্যা, জীববিদ্যা, রসায়ন বা গণিতের নম্বর নিয়ে সমাজ মাধ্যমে তৈরি হওয়া বিতর্কের জবাব দিয়েছে বোর্ড। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তাদের ওয়ান স্ক্রিন মার্কিং বা ডিজিটাল খাতা দেখার পদ্ধতি সম্পূর্ণরূপে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং নির্ভুল। আর ডিজিটাল মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রতিটি উত্তর এর মার্কিং সুনিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি যদি কোনও পড়ুয়া নম্বরে সন্তুষ্ট না হয়, সেক্ষেত্রে আগের মতোই খাতা রিভিউ করার জন্য আবেদন করার সুযোগ থাকছে।










