আর তাঁবেদারি নয়, রাজ্য পুলিশকে ফ্রি হ্যান্ড দিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: রাজ্যের দায়িত্ব হাতে নিয়েই জিরো টলারেন্স নীতিতে চলছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। অন্যায় দেখলেই তৎক্ষণাৎ অ্যাকশন নিতে বলা হয়েছে প্রশাসনকে। আসলে বাংলার পুলিশ বা প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে একেবারে নিজে হাতে সুশৃংখলভাবে গড়ে তুলতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই লক্ষ্যেই এবার ডায়মন্ড হারবারে গিয়ে জেলাটির পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সাথে বৈঠক করেন তিনি। আর সেই বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রীর একেবারে সাফ বার্তা, এখন থেকে আর কোনও রাজনৈতিক দল বা নেতার তাঁবেদারি করতে হবে না। এক কথায়, পুলিশকে ফ্রি হ্যান্ড দিয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

পুলিশকে ফ্রি হ্যান্ড দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্যে ক্ষমতায় আসার আগেই শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, বাংলায় কোনও অন্যায় বরদাস্ত করবেন না তিনি। আর যাই হোক পশ্চিমবঙ্গকে সোনার বাংলা করার স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। মূলত সেই সূত্রেই সরকার গঠন করতেই বঙ্গবাসীর স্বার্থে একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে বিজেপি সরকার। এমতাবস্থায়, শনিবার ডায়মন্ড হারবারে পৌঁছে জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সাথে বৈঠক করার পর মুখ্যমন্ত্রীর একেবারে স্পষ্টবার্তা, এবার থেকে পুলিশকে আর কোনও রাজনৈতিক নেতার অধীনে থাকতে হবে না! পুলিশ কাজ করবে স্বাধীনভাবে।

এদিনের বৈঠকেই রাজ্যের পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড পুরোপুরি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সাথে কারও দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে সম্পূর্ণ আইন এবং নীতি মেনে পুলিশের নিচু তলার কর্মী থেকে শুরু করে অফিসারদের কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর একেবারে সাফ বক্তব্য, পুলিশ পুলিশের কাজ করবে। অন্যায় দেখলে কোনও রাজনৈতিক রঙ না দেখে গ্রেফতার করতে হবে! ভবিষ্যতে নীতি মেনে কাজ করবে পুলিশ। এক কথায় এদিন, পুলিশ কীভাবে কাজ করবে তার একটি ব্লু প্রিন্ট বা রূপরেখা ঠিক করে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

অবশ্যই পড়ুন: রবিবার বন্ধ না খোলা বিদ্যাসাগর সেতু? নতুন বিজ্ঞপ্তি কলকাতা পুলিশের

ডায়মন্ড হারবারের মাটিতে দাঁড়িয়ে সেখানকার বিভিন্ন হিংসার ঘটনা স্মরণ করে এদিন পুলিশকর্তাদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিগত দিনগুলিতে ডায়মন্ড হারবারে প্রচুর বেআইনি এবং অবৈধ কাজকর্ম হয়েছে। রাজনৈতিক চাপে পড়ে আপনারাও কোথাও না কোথাও গিয়ে সেই কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন। এখানকার সংসদ পুলিশকে ফোন করে দলদাসের মতো কাজ করাতেন। আপনারাও সেটা করতেন। কিন্তু সেসব দিন শেষ। এখন থেকে আমি আপনাদের ফ্রি হ্যান্ড দিলাম। কারও তাঁবেদারি নয়, নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন।” এদিন, পুলিশকে তাঁদের কাজে স্বাধীনতা দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে রাজ্যের প্রতিটি থানায় মহিলা ডেস্ক চালু করা, প্রতিবাদ বা অবস্থানের আগে পুলিশের অনুমতি বাধ্যতামূলক করা, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করায় আইনি পদক্ষেপ, বেআইনি নির্মাণ রুখতে পদক্ষেপের পাশাপাশি পুরসভায় নজরদারির মতো একগুচ্ছ নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।