অনন্যা সরকার, পশ্চিম মেদিনীপুর: তিনি কোনো সিনেমার তারকা নন, তবে জনপ্রিয়তায় সেলিব্রিটিদের থেকে কম কিছুও নন এই ‘লেডি কপ’। তিনি দুষ্কৃতীদের ত্রাস ও আর ছাত্র-ছাত্রীদের কাছের লোক। তিনি হলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের বর্তমান পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা (Success Story of IPS Papiya Sultana)। জেলার আবালবৃদ্ধবনিতা এখন তাঁর কাজের ও প্রেরণাদায়ক বক্তব্যের ফ্যান হয়ে উঠেছেন। বাউরিয়ার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা অতি সাধারণ মেয়ের আইপিএস অফিসার হওয়ার এই যাত্রা লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়ের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। তিনি ডব্লিউবিসিএস (WBCS) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পুলিশে যোগ দেন। আসুন পাপিয়া সুলতানার এই সাফল্যের গল্পটি জেনে নেওয়া যাক।
গ্রামের সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে আজ জেলা পুলিশ সুপার
হাওড়ার বাউরিয়া অঞ্চলে এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা পাপিয়ার। তাঁর বাবা ছিলেন পেশায় ইঞ্জিনিয়ার, আর মা একটি মাদ্রাসা স্কুলের শিক্ষিকা। প্রত্যন্ত গ্রামে থাকতেন বলে পুলিশ সার্ভিস বা কোনো উচ্চপদের সরকারি চাকরি করার সুযোগ তাঁর কাছে খুব একটা সহজে আসেনি। তবে সকল বাধা অতিক্রম করে তিনি আজ পশ্চিমবঙ্গের মুসলমান সম্প্রদায় থেকে উঠে আসা রাজ্যের প্রথম মহিলা আইপিএস অফিসার হয়েছেন। গ্রামগঞ্জগুলিতেও যে মেধাবী ও যোগ্য ছেলেমেয়েদের ছড়াছড়ি, পাপিয়া তাঁর জীবন্ত উদাহরণ।
আরও পড়ুন: বাগানে বসিয়েছেন এই গাছ? এখনই সাবধান হন, আস্তানা গাড়তে পারে সাপেরা!
নিজের স্বপ্নপূরণের তাগিদে দিনরাত এক করে খেটেছেন পাপিয়া। এমনকি লক্ষ্যে অবিচল থেকে কোনও কোনও দিন টানা ২৩ ঘণ্টাও বইয়ে ডুবে থেকে প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। মাত্র ২১ দিনের প্রশিক্ষণের পর পাপিয়া তাঁর পছন্দসই চাকরিটি পেয়েছিলেন। বই পড়তে ভীষণ ভালোবাসেন পশ্চিম মেদিনীপুরের বর্তমান পুলিশ সুপার। আজও তাই অত্যন্ত কর্মব্যস্ততার মাঝেও বই নিয়ে বসে পড়েন, পাশাপাশি চলে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কোর্সের প্রশিক্ষণও। ২০০৮ সালে পাপিয়া সুলতানা পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিস (West Bengal Police Service) পরীক্ষার উত্তীর্ণ হন। সেখান থেকেই তাঁর কর্মজীবনের শুরু। এরপর দীর্ঘ ৭ বছরের পরিশ্রমের পর ২০১৫ সালে পদোন্নতি হয়ে আইপিএস (IPS) অফিসার হন পাপিয়া সুলতানা।
আরও পড়ুন: শিয়ালদহ স্টেশনে নয়া গেট, কোন কোন প্ল্যাটফর্মের জন্য নতুন এই প্রবেশ পথ?
এখন তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো বড় জেলার পুলিশি দায়িত্ব নিজের হাতে সামলাচ্ছেন। কয়েক বছর আগে রাজ্যে তোলপাড় সৃষ্টি করা সন্দেশখালির জমি দখল ও নারী নির্যাতনের ঘটনার তদন্তেও তিনি গুরুত্ত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর হার না মানা জেদের কারণে আজ তিনি জেলার ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন। তাঁর বক্তব্য তরুন প্রজন্মকে বড় কিছু হওয়ার উদ্দেশ্যে উদ্বুদ্ধ করে। আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ় সংকল্পের জোরে সব বাধা ও প্রতিকূলতাকে জয় করেও যে পৌঁছানো যায় অভিষ্ট লক্ষ্যে, তা পাপিয়া সুলতানা তাঁর জীবন দিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছেন।










