অনন্যা সরকার, কলকাতা: ভারতের বৃহত্তম রিটেইল ব্রোকারেজ সংস্থা জিরোধার (Zerodha) সহ-প্রতিষ্ঠাতা নিখিল কামাথের সাফল্যের কাহিনী (Success Story of Nikhil Kamath) হার মানাবে সিনেমার গল্পকেও। মাত্র ১৭ বছর বয়সে দশম শ্রেণি ড্রপ আউট নিখিল আজ ভারতের অন্যতম সেল্ফ-মেড বিলিয়নিয়ার। যেখানে সমাজ এখনও মনে করে বড় সাফল্যের জন্য নামী প্রতিষ্ঠানের উচ্চ-স্তরের ডিগ্রি বা অভিজাত শিক্ষা অপরিহার্য, সেখানে নিখিল কামাথ দেখিয়ে দিয়েছেন সংকল্প, ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যাবসায়ের জোরে মানুষ কোথায় পৌঁছাতে পারে। তবে তার এই যাত্রাপথে বাবা-মায়ের স্বতন্ত্র লালন-পালন এবং গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে কিছু করার ইচ্ছা প্রবলভাবে সাহায্য করেছে। আসুন নিখিল কামাথের এই সাফল্যের কাহিনীটি জেনে নেওয়া যাক।
কম বয়সেই ব্যবসায়ী হিসেবে পথচলা শুরু নিখিলের
১৯৮৬ সালে কর্ণাটকের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নিখিল কামাথের। ছোট থেকেই বইপত্র ও পড়াশোনার প্রতি মোটেই আগ্রহ ছিল না তার। বাবা-মাও তাকে কখনো গতানুগতিক শিক্ষালাভের জন্য বাধ্য করেননি, বরং তার কৌতূহল মেটানোর সুযোগ দিয়েছিলেন তারা। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই নিখিল কামাথের উদ্যোক্তা হওয়ার যাত্রা শুরু হয়। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি এবং তার এক বন্ধু চুপিচুপি পুরোনো মোবাইল ফোন কেনাবেচার ব্যবসা শুরু করেন। লাভ ভালোই হচ্ছিল, কিন্তু যখন তার মা বিষয়টি জানতে পারেন, তখন রাগ করে সব ফোন টয়লেটে ফ্লাশ করে দেন। তবে এই ঘটনা তার উৎসাহকে দমে যেতে দেয়নি বরং ঝুঁকি নেওয়া ও প্রতিবন্ধকতাকে জয় করার সাহস যোগায়।
একটি পডকাস্টে নিখিল কামাথ জানান, ২০০০-এর দশকের গোড়ার দিকে তিনি বেঙ্গালুরুর একটি কল সেন্টারে প্রথম চাকরি পান। সেই সময়ে মাসে তিনি ৭,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকা আয় করতেন। রাতের শিফটে কাজ করতেন নিখিল। তার মতে এই সাধারণ চাকরিই তাকে কর্মনিষ্ঠা ও শৃঙ্খলার পাঠ পড়িয়েছিল, যা পরে তাকে জিরোধার মতো একটি বড় কোম্পানি গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
নিখিল কামাথ বলেন, তার বাবা-মা এমন কিছু নীতি মেনে চলতেন, যা আজকের দিনে বিরল। যেমন তাদের বাড়িতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পূর্ণ স্বাধীনতা ছিল। নিখিল যখন ১৫-১৬ বছর বয়সে স্কুল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তার বাবা-মা তাকে কোনোরকম শাসন না করে নিজের পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ দেন। দশম শ্রেণি থেকে ড্রপ আউট করার পর তিনি কল সেন্টারে রাতের শিফটে কাজ শুরু করেন। আর অবসর সময়ে শিখতে শুরু করেন স্টক ট্রেডিং। নিখিল জানান, তার বাবা ও মা কখনোই প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যকেই একমাত্র সাফল্যের মাপকাঠি বলে মানতেন না।
আরও পড়ুনঃ মাঠে চরাতেন গরু-মহিষ, ছিল না ফি দেওয়ার টাকা! UPSC ক্র্যাক করে প্রতাপ আজ IPS
নিখিল কামাথের এই সাফল্য বই পড়ে আসেনি, এসেছে জীবনের অভিজ্ঞতা ও করা ভুলগুলো থেকে। নিখিল তার ভাই নিতিন কামাথের সাথে ২০১০ সালে রিটেইল ব্রোকারেজ সংস্থা, জিরোধা প্রতিষ্ঠা করেন। ব্যবসায় তার কৌশলগত দূরদর্শিতা ভারতের রিটেইল ব্রোকারেজ সেক্টরকেই বদলে দিয়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে শেয়ার বাজারে সহজ ও সাশ্রয়ী উপায়ে বিনিয়োগ করতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে নিখিল চালু করেন ডিসকাউন্ট ব্রোকারেজ মডেল। ফোর্বস (Forbes) ম্যাগাজিন অনুযায়ী, নিখিল কামাথের নেটওয়ার্থ বর্তমানে ২.৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৩,০০০ কোটি টাকা), যা তাকে করে তুলেছে ভারতের স্ব-প্রতিষ্ঠিত বিলিয়নিয়ারদের মধ্যে একজন।










