দিনে ২০০ লিটার দুধ উৎপাদন, বছরে ২৫ লক্ষ আয়, ডেয়ারিকে হাইটেক ব্যবসা বানাল সুনীল

Published:

Dairy Farming

অনন্যা সরকার, কলকাতা: বিহারের বাসিন্দা সুনীল কুমার পশুপালনের ও দুগ্ধ শিল্পে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে যুবকদের স্বনিযুক্তির নতুন দিশা দেখাচ্ছেন। কয়েক বছর আগেও সুনীল কুমার (Success Story of Sunil Kumar) প্রচলিত ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন, কিন্তু প্রত্যাশিত লাভ না হওয়ায় এবং নতুন কিছু করার ইচ্ছায় তিনি দুগ্ধ খামার বা ডেয়ারি ফার্মিংয়ের (Dairy Farming) দিকে ঝোঁকেন। গত চার বছর ধরে এই কাজ নিষ্ঠার সাথে করে যাচ্ছেন তিনি। আজ তার আধুনিক গোশালাটি শুধু একটি ডেয়ারি ফার্ম নয়, সাফল্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। তার এই সাফল্য প্রমাণ করেছে যে, কঠোর পরিশ্রমের সাথে যদি থাকে সঠিক নির্দেশনা, তাহলে পশুপালন করেও কর্পোরেট চাকরির থেকে ভালো আয় করা সম্ভব। 

বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা এবং পশুদের সুষম খাদ্যই সাফল্যের চাবিকাঠি

সীতামঢ়ী জেলার ডুমরা ব্লকের আজমগড় গ্রামের বাসিন্দা সুনীল তার বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তার ডেয়ারি ফার্মিংয়ের ব্যবসাকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছেন। বর্তমানে তাঁর খামারে মোট ২২টি গবাদি পশু রয়েছে, যার মধ্যে ৯টি গরু এবং ৭টি মহিষ থেকে নিয়মিত দুধ পাওয়া যায়। সুনীল জানান যে, পশুদের স্বাস্থ্য এবং দুধের মান উন্নত করার জন্য তিনি শুধুমাত্র শুকনো খড় বা শস্য খাওয়ান না। গবাদি পশুদের নিয়মিত সবুজ ঘাস খাওয়ানোর ব্যবস্থাও রেখেছেন তিনি। এতে বেশি পরিমাণে দুধ উৎপাদন হয় এবং পশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বজায় থাকে। নিজের কঠোর পরিশ্রম এবং মাত্র একজন কর্মীর ভরসায় তিনি তার পুরো খামারটি দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেন, ফলে খরচ কম হয় এবং লাভের অঙ্কও বাড়ে।

সুনীলের কুমারের ফার্মটি কোনও বড় ডেয়ারি ইন্ডাস্ট্রির থেকে কম কিছু নয়। তার গোশালায় প্রতিদিন গড়ে ২ কুইন্টাল বা ২০০ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়, যা তিনি স্থানীয় বাজার এবং ডেয়ারি সেন্টারগুলিতে বিক্রি করেন। এত পরিমাণ দুধ উৎপাদনের ফলে বর্তমানে তার বার্ষিক আয় প্রায় ২৩ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা। পশুদের খাবার, কর্মীর বেতন এবং রক্ষণাবেক্ষণ সহ আনুষাঙ্গিক সমস্ত খরচ বাদ দেওয়ার পর, সুনীল বছরে প্রায় ৯ থেকে ১০ লক্ষ টাকা লাভ করেন। 

আরও পড়ুনঃ কলকাতার অদূরেই এক লুকোনো রত্ন, বর্ষায় ঘুরে আসুন ‘চাউলভাজা জলপ্রপাত’ থেকে

সুনীল কুমার আজমগড় ও তার আশেপাশের অঞ্চলগুলিতে একজন প্রগতিশীল দুগ্ধ ব্যবসায়ী হিসেবে নিজের নাম প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার সাফল্য দেখে এলাকার অনেক বেকার যুবকেরা এখন পশুপালনকে পেশা হিসাবে বেছে নেওয়ার চিন্তা ভাবনা করছেন। সুনীল মনে করেন যে, দুগ্ধ খামারের জন্য ধৈর্য এবং পশুদের প্রতি ভালোবাসা অত্যন্ত দরকার। তরুণরা যদি আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য এবং ব্যবসা শুরু করার জন্য সরকারি প্রকল্পগুলির সুবিধা নেয়, তবে তাদের নিজের জায়গা ছেড়ে কাজের সন্ধানে অন্যত্র চলে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। সুনীল কুমারের এই সাফল্য আধুনিকতাকে গ্রহণ করেও কীভাবে নিজের শিকড়ের সাথে যুক্ত থাকা যায়, তারই প্রমাণ।

google button