সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গরমের দাপট দিনের পর দিন বাড়ছে। তবে এই গরমে ঠান্ডা জল ছাড়া যেন টেকাই দুষ্কর। এবার অনেকের বাড়িতেই ফ্রিজ নেই। সেক্ষেত্রে ঘরোয়া উপায় ব্যবহার করতে পারেন, যাতে জল বরফের মতো ঠান্ডা থাকবে (Water Cooling Tips)। হ্যাঁ, গ্রীষ্মের প্রখর তাপে মাটির কলসি বা মটকার জলের কোনও বিকল্পই যেন নেই। একসময় গ্রাম বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরেই এই মাটির কলসি দেখতে পাওয়া যেত। আর আজ ফ্রিজের যুগে তা কিছুটা আড়ালে থাকলেও পুষ্টিবিদরা বলছে এখনও সেই পুরনো অভ্যাস বজায় রাখার কথা। কারণ, এর পেছনে গভীর বিজ্ঞান লুকিয়ে রয়েছে।
বাষ্পীভবনের জাদুকরী রহস্য মাটির কলসিতে
যদি প্রশ্ন করা হয় যে, মাটির কলসি কেন জলকে প্রাকৃতিক উপায়ে ঠান্ডা রাখে? আসলে বিজ্ঞান বলছে, মাটির পাত্র ছিদ্রযুক্ত আর এই পাত্রের গায়ে হাজার হাজার অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে, যা খালি চোখে দেখতে পাওয়া যায় না। আর এই ছিদ্রগুলি দিয়ে সামান্য পরিমাণ জল গড়িয়ে গড়িয়ে কলসির বাইরের স্তরে নেমে আসে এবং তা বাষ্পীভূত হয়। এই বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ায় কলসির ভেতর থেকে তাপ শোষিত হয়। যার ফলে ভেতরে থাকা জল প্রাকৃতিকভাবে ১০ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ঠান্ডা থাকে। আর সিন্ধু সভ্যতার সময়কাল থেকেই ভারতীয়রা এই কৌশলে জল ঠান্ডা রেখে আসছে।
এদিকে ফ্রিজের ঠান্ডা জল সাময়িক আরাম দিলেও শরীরের জন্য তা ক্ষতিকারক। অন্যদিকে মাটির কলসির জলের গুণগত মান অপরিসীম। কারণ, হুট করে ফ্রিজের অতিরিক্ত ঠান্ডা জল খেলে গলা ব্যাথা বা সর্দি কাশি হয়ে থাকে। তবে মাটির পাত্রের জল পরিমিত ঠান্ডা হওয়ার কারণে এটি গলার জন্য অত্যন্ত আরামদায়ক। এর পাশাপাশি ফ্রিজের জল রক্তনালি সংকুচিত করে হজমে বাধা দেয়। তবে মাটির কলসির জল বিপাক হার বা মেটাবলিজম উন্নত করে আর হজম প্রক্রিয়াকে সচল রাখে। সবথেকে বড় ব্যাপার, মাটি হল প্রাকৃতিকভাবে ক্ষারীয়। আর আমাদের শরীরে খাবারের মাধ্যমে যে অ্যাসিড তৈরি হয়, মাটির ক্ষারীয় গুণ সেই অ্যাসিডের সঙ্গে মিশে শরীরের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখে।
আবার অনেকেই মনে করেন যে, মাটির কলসির জলে এক আলাদা মেটে গন্ধ বা স্বাদ আছে, যা তৃপ্তিদায়ক। প্লাস্টিকের বোতলে জল রাখলে তাতে ক্ষতিকারক বিপিএ মেশার ভয় থাকে। তবে মাটির পাত্র সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং পরিবেশবান্ধব। তবে হ্যাঁ, একটি আদর্শ মাটির কলসি তৈরি করা বেশ সময়সাপেক্ষ কাজ। দুই ধরনের মাটি মিশিয়ে কাঁদা তৈরি করা হয়। এরপর কুমোরকে চাকে একে আকার দেওয়া হয়। আর গড়ন শেষে প্রায় পাঁচদিন ধরে আগুনে পুড়িয়ে সেটি মজবুত করা হয়। একটি কলসি তৈরি হতে আনুমানিক এক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগে।
আরও পড়ুন: এক, দুই নাকি পাঁচ? কটি কাণ্ডের লাকি ব্যাম্বু আপনার জন্য শুভ জানুন
তবে হ্যাঁ, উপকার পেতে হলে অবশ্যই কলসি পরিষ্কার রাখা জরুরী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কলসি নিয়মিত জল দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে। আর ব্যবহারের আগে কলসিটি রোদে শুকিয়ে নিলে ব্যাকটেরিয়া হওয়ার ভয় থাকবে না। পাশাপাশি কলসি সবসময় ঢাকা দিয়ে রাখা উচিত।










