বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের অন্তর্দ্বন্দ্বের খবর সর্বসমক্ষে চলে আসতেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগ দাবি করছেন বিরোধীরা। ইতিমধ্যেই তিন নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বুধবার, সাংবাদিকদের সামনে মুখ খোলার পর বৃহস্পতিবার কিছু Whatsapp চ্যাটের স্ক্রিনশট নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল শেয়ার করে ফের নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করলেন অভিষেক। কী এমন আছে ওই স্ক্রিনশটে?
স্ক্রিনশট আপলোড করে বিস্ফোরক অভিষেক
মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গত এপ্রিল মাসের কিছু Whatsapp স্ক্রিনশট সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দাবি করেছেন, ভারতের নির্বাচন কমিশন একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য এবং বিরোধীদের কণ্ঠ রোধ করার জন্য ভোটার তালিকা থেকে 30 লক্ষ ভোটারের নাম সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে অভিষেক লেখেন, “এগুলো গত এপ্রিল মাসের পর্যবেক্ষকদের Whatsapp গ্রুপের স্ক্রিনশট। এসবই ভোটার তালিকা থেকে 30 লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার পরিকল্পিত চক্রান্ত নিয়ে নানান প্রশ্ন সামনে আনছে।” এদিন ওই পোস্টেই একেবারে সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন অভিষেক। তৃণমূল সাংসদ লেখেন, “বিষয়টাকে এভাবে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। সবটা ধামাচাপা দেওয়া যায় না এভাবে। পুরোপুরি নীরব থেকেও এর জবাব দেওয়া যায় না।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একেবারে সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে লিখেছেন, “দেশের জনগণের সামনে জ্ঞানেশ কুমার এবং ভারতের প্রধান বিচারপতিকে আজকের দিনে দাঁড়িয়ে বেশ কিছু গুরুতর প্রশ্নের জবাব দিতেই হবে। ভারত সবকিছুতে নজর রাখছে। গোটা ভারত প্রশ্ন করছে আর এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ভারত চাইবে।”
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে চলছে পাকিস্তান মেলা, কী পাওয়া যাচ্ছে সেখানে?
উল্লেখ্য, গতকাল দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদন ঘিরে বিতর্কে জড়িয়ে ছিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। আর তারপরেই সরব হন বিরোধীরা। বুধবার ফেসবুক লাইভে এসে জ্ঞানেশ কুমারকে সরাসরি আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনই আমেরিকা থেকে দেশে ফিরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেকও বলেন, “বাংলার অভিশাপ লেগে গিয়েছে। সে জন্যই আজ গোটা দেশে বিজেপির অবস্থা এত কঠিন, আগামীতে আরও খারাপ হবে।”










