‘ধর্মের ভিত্তিতে মুসলিমদের সংরক্ষণ নয়’ সংসদে স্পষ্ট জানালেন অমিত শাহ

Published:

Amit Shah

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আবহে লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল (Women Reservation Bill) নিয়ে তুমুল তরজা শুরু হয়েছে। শুধু তাই নয়, লোকসভায় জনগণনা ও নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে। এদিকে যখন কেন্দ্রীয় সরকার (Central Government Of India) দাবি করছে যে, তারা বিলের মাধ্যমে সংবিধান মেনেই কাজ করছে। অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, সরকারের পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আর এসবের মাঝেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন যে ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণের কোনও প্রশ্নই ওঠে না।

মুসলিমদের সংরক্ষণ নিয়ে কী বললেন শাহ?

রিপোর্ট মোতাবেক আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সংসদে সংবিধানের মহিলা সংরক্ষণ বিল, সীমানা পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আইন সংক্রান্ত সংশোধনী বিল পেশ হতে চলেছে। আর সেই আবহেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মুসলিমদের সংরক্ষণ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন। তিনি জানান, ‘আমাদের সংবিধান ধর্মের ভিত্তিতে কোনওরকমের সংরক্ষণ প্রদানের অনুমতি দেয়নি। আমি ফের কেন্দ্রীয় সরকারের সংকল্প বলে দিচ্ছি, ধর্মের ভিত্তিতে মুসলিমদের কোনওরকম সংরক্ষণ প্রদান করা চরম সংবিধান-বিরোধী। এটার প্রশ্নই ওঠে না।’

সমাজবাদী পার্টিকে কটাক্ষ শাহের

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সেই মন্তব্যের পরে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব বলেন, ‘পুরো দেশ জনসংখ্যা অর্ধেকের সংরক্ষণ চায়। আমি মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর থেকে জানতে চাই যে মুসলিম মহিলারা কি সেই অর্ধেক জনসংখ্যার আওতায় পড়েন না?’ এরপরই রাজনৈতিক তরজায় ঘি ঢাললেন অমিত শাহ। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘সমাজবাদী পার্টি চাইলে নিজেদের সব আসন মুসলিম মহিলাদের দিতে পারে, আমার আপত্তি নেই।’ তাঁর আরও সংযোজন, “আমি গোটা দেশকে জানাতে চাই, জনগণনা শুরু হয়ে গিয়েছে। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতিগত গণনাও হবে এবং সেই অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।” অন্যদিকে, নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে সরব হন কংগ্রেস সাংসদ রেণুকা চৌধুরী।

আরও পড়ুন: অ্যাকাউন্ট থেকে ২৪ লাখ গায়েব! ষড়যন্ত্র দেখছেন রায়গঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণী

রেণুকা চৌধুরী অভিযোগ করেন যে, “নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে কোনও আলোচনাই হয়নি। কাউকে ডাকা হয়নি, কোনও আলোচনা হয়নি। নির্বাচন চলছে, আর তার মাঝেই এই বিল পাশ করানো হচ্ছে। এটা একটা নাটক। এটা কোনও ইস্যুই নয়। আসল ব্যাপারটা হল দেশে দুর্নীতি বাড়ছে। যারা মহিলাদের শোষণ করে, তারাই এখন মহিলাদের নামে বড় বড় কথা বলছে।” অন্যদিকে সাংসদ ধর্মেন্দ্র যাদব মোদি সরকারকে বিঁধে বলেন যে সরকার সংবিধানকে বিকৃত, বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে জনগণনা থেকে আসন পুনর্বিন্যাসকে আলাদা করে। এখন দেখার এই রাজনৈতিক তরজা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কোন প্রভাব ফেলে কিনা।