প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পূর্বতন সরকার তৃণমূলের আমলে নিয়ম বহির্ভূতভাবে একাধিক পদ আঁকড়ে বসে রয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ভাই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় (Swapan Banerjee)। পদত্যাগ করার চিঠি পেয়েও সরে দাঁড়াননি! এবার সেই পদগুলি থেকে সরে দাঁড়াতে স্বপন ওরফে বাবুনকে দ্বিতীয়বার চিঠি পাঠানো হল বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (Bengal Olympic Association) তরফে। IOA-র ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
মুখ্যমন্ত্রীর ভাইকে পদ ছাড়ার জন্য চিঠি
উল্লেখ্য, বর্তমানে রাজ্যের বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সচিব, রাজ্য টেবিল টেনিস সংস্থার সভাপতি, রাজ্য হ্যান্ডবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট এবং রাজ্য কবাডি অ্যাসোসিয়েশনের সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে বাবুন। এমতাবস্থায় প্রশ্ন উঠছে কীভাবে তিনি একসঙ্গে এতগুলো পদে রয়েছেন, যেখানে ক্রীড়া প্রশাসনে ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি বহাল রয়েছে। এমতাবস্থায় গতকাল, বৃহস্পতিবার, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ভাইকে দ্বিতীয়বার চিঠি দিল বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন।
তালিকায় রয়েছে সুজিত বসুর নাম
জানা গিয়েছে, দিন পনেরো আগে, বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের তরফে একাধিক পদে থাকা ব্যক্তিদের চিঠি দিয়ে পদ থেকে সরতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। এই চিঠি একদিকে যেমন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো হয়েছিল ঠিক তেমনই আবার প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু সহ একাধিক ব্যক্তিকে পাঠানো হয়েছিল। কারণ তিনিও রাজ্য জুডো অ্যাসোসিয়েশন এবং হকি বেঙ্গলের প্রেসিডেন্ট পদে রয়েছেন। কিন্তু সেখান থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাই পুনরায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ভাই ও ধৃত প্রাক্তন দমকলমন্ত্রীকে ফের চিঠি দিল বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন।
আরও পড়ুন: ডিটেনশন ও ডিপোর্টেশনে জোর প্রশাসনের! হোল্ডিং সেন্টারে আটক ৩৮৬, প্রকাশ্যে এল বড় তথ্য
প্রসঙ্গত, ক্ষমতার পালাবদল হতেই ক্রীড়ামন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছেন নীশীথ প্রামাণিক। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “বাংলার ক্রীড়াঙ্গনগুলো যাতে রাজনীতিমুক্ত হয়, সেটা আমাদের দেখতে হবে। এখানকার স্পোর্টস কমিটিগুলোতে পরিবারতন্ত্রের একটা ছায়া রয়েছে। স্পোর্টস সেক্টরগুলোকে সেই ছায়া থেকে মুক্ত করতে হবে।” আর এই নির্দেশের পরই ক্রীড়াক্ষেত্রে পদ অধিকর্তাদের নিয়ে যাচাই পর্ব শুরু হয়েছে। অন্যদিকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আর এক ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও হরিশ পার্ক ক্লাব এবং হরিশ পার্ক ব্যায়াম সমিতি দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রাখার অভিযোগও উঠেছিল।










