হাইকোর্টে তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের দাবি ঠুকল ঋতব্রতরা, কী বলল আদালত?

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে কালীঘাট তৃণমূল (Trinamool Congress)। এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশে সাময়িক স্বস্তি পেলেও তৃণমূলের তিনিটি অ্যাকাউন্টই ফ্রিজ করে দিয়েছে পুলিশ এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। যা নিয়ে ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পন্থীরা। এরই মাঝে কলকাতা হাইকোর্টে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তাঁরাই নাকি আসল তৃণমূল। তাই অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অধিকার শুধুমাত্র তাঁদেরই আছে। হাইকোর্টে এমন দাবি করেই তীব্র ভৎসনার শিকার হতে হল নব্য তৃণমূলকে!

ঋতব্রতদের আবেদনে সাড়াই দিল না আদালত

বিশেষ অভিযোগের ভিত্তিতে তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দিয়েছিল পুলিশ। পরবর্তীতে জল আদালতে গড়ালে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যাবে। তবে আদালতের তরফে নিযুক্ত বিশেষ অফিসারকে লেনদেনের বিষয়ে অবগত করতে হবে। সেই অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল প্রাক্তন বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, আদালতের এই রায়ের আগেই পুলিশের ফ্রিজ করা তৃণমূলের অ্যাকাউন্টগুলি বাজেয়াপ্ত করে দিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এই ঘটনায় এবার আদালতে কালীঘাট তৃণমূল। এদিকে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চে তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা নিয়ে বড় দাবি করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী।

এদিন আসলে নিম্ন আদালতের রায়কে সামনে রেখেই হাইকোর্টে নিজেদের আসল তৃণমূল হিসেবে দাবি করেছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়েরা। রাজ্যের বিরোধী দলনেতার তরফে আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরী আদালতে দাবি করেন, “আমরা নির্দেশ পেয়েছি নিম্ন আদালতের। আমরাই আসল তৃণমূল। আমরাই তৃণমূলকে রিপ্রেজেন্ট করব। আর কেউ নয়! অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অধিকার আমাদের আছে।” এমন কথা শুনে বিচারপতি বলেন, “প্রপার অ্যাপ্লিকেশনে আসুন, আপনাদের কথা শুনতে চাই না।” এক কথায়, এদিন কলকাতা হাইকোর্টে ধাক্কা খেলেন ঋতব্রত!

অবশ্যই পড়ুন: হেলিকপ্টার থেকে হবে গোলাপ বৃষ্টি, তারকেশ্বরের জলযাত্রীদের জন্য একাধিক ভাবনা সরকারের

বলাই বাহুল্য, এদিন নিম্ন আদালতের নির্দেশ প্রসঙ্গে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও প্রশ্ন তুলেছিলেন, “নিম্ন আদালতের বিচারকের কি ক্ষমতা আছে কোনও একজন ব্যক্তিকে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অধিকার দেওয়ার?” কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এক্ষেত্রে পুলিশের কাছ থেকে রিপোর্ট নিয়েছে কিনা সেটাও জানতে চান কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি।