সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গতকাল হুগলিতে সিপিএমের মিছিলকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় চরম উত্তেজনা। চুঁচুড়ার (Chinsurah) বিজেপি কর্মী শাশ্বত ব্যানার্জির বাড়ির ছাদ থেকে হিন্দুদের গেরুয়া পতাকা খুলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। এমনকি ওই বিজেপি কর্মীর বাড়ি ঘিরে ফেলে বিক্ষোভ দেখায় শত শত বাম সমর্থকরা। গতকালই ফের সেই গেরুয়া ধ্বজ লাগিয়ে বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন শাশ্বত ব্যানার্জি। তবে আজ চুঁচুড়ার বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগকেই একহাত নিলেন ওই বিজেপি কর্মী।
বিজেপি বিধায়ককে চরম কটাক্ষ দলীয় কর্মীর
গতকাল সিপিএমের তরফ থেকে ‘জেল ভরো’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয় গোটা রাজ্যজুড়ে। এমনকি শুধুমাত্র হুগলি নয়, বরং বারাসাতসহ একাধিক জায়গায় তৈরি হয় উত্তেজনা। বাম কর্মী সমর্থকরা সেই কর্মসূচিতে যোগদান করে। তবে চুঁচুড়ার ওই বিজেপি কর্মীর বাড়ির সামনে গিয়ে বামফ্রন্ট কর্মীরা ডিম ছোঁড়ার অভিযোগ করেন। এমনকি পুলিশকে দিয়ে বিজেপি কর্মীর বাড়ির ছাদ থেকে ধর্মীয় বজরংবলীর পতাকা খোলাতে বাধ্য করে। এতেই সুর চড়ান বিজেপি নেতা শাশ্বত ব্যানার্জি। এমনকি তিনি অভিযোগ করেন, রিপোর্টাররা পর্যন্ত এই খবর কভার করবে না।
তবে আজ ফেসবুক লাইভে এসে দলীয় বিধায়ক সুবীর নাগের বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তিনি। প্রকাশ্যে তিনি বিধায়ককে ‘হিন্দু বিরোধী’ তকমা দিয়ে ‘জিহাদীদের সমর্থক’ বলে দাবি করেন। তার দাবি, সুবীর নাগই নাকি গতকাল চুঁচুড়া থানায় ওই বিজেপি কর্মী শাশ্বত ব্যানার্জি সহ আরও বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ লিখিয়েছেন। পাশাপাশি বিধায়ক হিন্দুদের পতাকা খোলার সঙ্গে রাজনীতি টেনে এনেছেন বলেই অভিযোগ করেন বিজেপির কর্মী। “সনাতনি হিন্দুদের পাশে সনাতনিরা দাঁড়াচ্ছে এখানে সমস্যা কোথায়? আপনি নিজেই একটা হিন্দু বিরোধী।” বিধায়ককে তোপ বিজেপি কর্মীর।
ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “আমরা যারা ভারতীয় জনতা পার্টি করি, তাদের এটা ভুললে চলবে না, সবার আগে আমরা হিন্দু। গতকালের ঘটনাটি রাজনৈতিক ইস্যু ছিল না। বামপন্থী বা জিহাদীদের বিরুদ্ধে হিন্দুত্বের লড়াই ছিল। তবে আপনি বিধায়ক হয়ে বামপন্থীদের সমর্থন করছেন। আপনি কাদের ভোটে জিতেছেন? আপনার মতো কাউকে ডেকে আমি গলায় উত্তরীয় পরিয়ে সম্বর্ধনা দিইনি। শুধুমাত্র আপনার স্টেটমেন্টের জন্যই আমি আজ আপনার বিরুদ্ধে বলতে বাধ্য হলাম। আপনি হতে পারেন বিধায়ক। তবে আমরাও সনাতনিদের জন্য লড়াই করি। আপনাকে হোয়াটসঅ্যাপে লিখেছিলাম। উত্তর দিতে পারেননি কেন? ফোন ধরার সময় পাননি। এত ভয়?”
আরও পড়ুন: ১৬ আগস্টের মধ্যে কীভাবে করবেন গ্যাসের eKYC? জানুন প্রসেস ও কী কী ডকুমেন্ট লাগবে
বিজেপি কর্মীর আরও সংযোজন, “অ্যারেস্ট হলে হব। জেল খেটে বেরিয়ে আসব। তবে আপনার ওই স্টেটমেন্ট লড়াইটাকে সনাতনি হিন্দুদের বিপক্ষে নিয়ে গেল। দরকার হলে আমি একা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে যাব। আপনার বিরুদ্ধে যাব। লড়াইটা ছিল জিহাদীদের বিরুদ্ধে। আর আপনি সেই জিহাদীদের সমর্থন করলেন। আপনার দলের একজন কর্মী আমি। আমার ভিডিও দেখে কেন আপনি ফোন করেননি আমাকে? কীসের বিধায়ক আপনি? কাদের ভোটে বিধায়ক হয়েছেন? আপনি কি সিপিএম-দের বিধায়ক? তৃণমূলের বিধায়ক? সনাতনি হিন্দুদের পেছনে লাগবেন না। থাকবেন না। আগের সরকারও সনাতনীদের পিছনে লাগার ভুল করেছিল। আপনি মুসলিমদের জমি ভাড়া নিয়ে অফিস করেছেন। কিন্তু আপনি মুখ খোলাতে বাধ্য করলেন। আমি এটা করতাম না। কিন্তু আপনি আমার নামে কেস করালেন চুঁচুড়া থানায়। আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব।”










