প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আগমী ৬ অক্টোবর রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম এই দুটি বিধানসভা কেন্দ্র উপনির্বাচন (West Bengal Bypoll 2026) অনুষ্ঠিত হতে চলেছে তাই স্বাভাবিকভাবে রাজনৈতিক প্রস্তুতি তুঙ্গে। কিন্তু তৃণমূলের অন্দরে এখনও দড়ি টানাটানি বন্ধ হচ্ছে না। দলীয় নাম ও প্রতীকের প্রকৃত অধিকার কার এই ইস্যুতে (TMC Symbol Controversy) নির্বাচন কমিশনের মুখোমুখি হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) নেতৃত্বাধীন দুই ভিন্ন শিবির। কিন্তু পৃথক আলোচনার পরেও এবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখল কালীঘাট-পন্থী তৃণমূল কংগ্রেস।
রাতেই চিঠি কমিশনকে
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর দুপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দুই ভিন্ন শিবিরের সঙ্গেই পৃথকভাবে কথা বলেছিল কমিশন। এর পরেই রাতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয় কালীঘাট-পন্থী তৃণমূল কংগ্রেস। জানা গিয়েছে চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন। তিনি অভিযোগ জানিয়েছেন যে, “ঋতব্রত শিবির নিজেদের দাবির সপক্ষে ঠিক কী কী নথিপত্র জমা দিয়েছে, তা এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষকে কমিশনের তরফে স্পষ্ট করা হয়নি। এছাড়া কমিশনের নিজস্ব ওয়েবসাইটে তৃণমূলের মূল সংবিধানের সর্বশেষ তথ্য আপলোড করা হয়নি।”
TMC Rajya Sabha leader Derek O’Brien writes to the EC, citing the party Constitution’s five-year term for committees and office-bearers. The letter says the same five-year provision is included in the Constitution received by the EC on March 9, 2026. pic.twitter.com/5LiSpe6RD1
— Press Trust of India (@PTI_News) September 12, 2026
চিঠিতে কীসের অভিযোগ কালীঘাট তৃণমূলের
এখানেই শেষ নয় চিঠিতে ডেরেকের আরও দাবি, “তৃণমূলের সংবিধান অনুযায়ী দলের চেয়ারপার্সন নির্বাচন হওয়ার কথা আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালে। অতএব এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। পাশাপাশি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন নিয়ে ঋতব্রত শিবিরের উত্থাপিত অভিযোগ আইনত বৈধ নয়।” যদিও সেই চিঠি নিয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি নির্বাচন কমিশন। এখন দেখার ঋতব্রতরা তাদের তৃণমূলের উপরে অধিকারের দাবির সপক্ষে কী কী নথি জমা দিয়েছেন তার তথ্য কমিশন প্রকাশ করে কিনা।
আরও পড়ুন: ‘খ্রিস্টান ছাড়া কেউ অনুষ্ঠান করবে না, এমনটা …’ পার্ক স্ট্রিটে প্রথমবার দুর্গাপুজো নিয়ে বললেন সুজন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের জল্পনা, যেহেতু সামনেই রাজ্যের দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন, তাই হাতে কম সময় থাকায় দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে নেওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে। তাই সেক্ষেত্রে হয়ত কমিশন তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ‘ফ্রিজ’ বা স্থগিত করে দিতে পারে। যদি সেই উপায়ই অবলম্বন করা হয় তাহলে আসন্ন উপনির্বাচনে লড়াই করার জন্য দুই পক্ষকেই পৃথক বিকল্প নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করা হতে পারে। তবে সবটাই নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের জবাবের উপর।










