কেন প্রতি বছর ১৭ সেপ্টেম্বরেই হয় বিশ্বকর্মা পুজো? জানুন আসল কারণ

Published:

Vshwakarma puja

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাস এলেই শুরু হয়ে যায় ঘুড়ির সুতোয় মাঞ্জা দেওয়া। বিশ্বকর্মা পুজোর (Vishwakarma Puja) প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে ওঠে প্রত্যেকে। বিশেষ করে কলকারখানা, গ্যারেজ, ওয়ার্কশপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন যন্ত্র-প্রধান কর্মস্থলে এই দিনটিকে ঘিরে তৈরি হয় এক আলাদা উন্মাদনা। কিন্তু একটা জিনিস কখনও কি ভেবে দেখেছেন, অন্যান্য পুজোর তারিখ যেখানে প্রতি বছর বদলে যায়, সেখানে বিশ্বকর্মা পুজো প্রতিবছর একই সময়ে, অর্থাৎ ১৭ সেপ্টেম্বর কেন হয়? মনে রাখার সুবিধার্থে? না, এর পিছনে রয়েছে বাংলা পঞ্জিকার একটি বিশেষ নিয়ম।

১৭ সেপ্টেম্বরই কেন হয় বিশ্বকর্মা পুজো?

বিশ্বকর্মা পুজোর দিনটা ক্যালেন্ডারের কোনও নির্দিষ্ট ইংরেজি তারিখ ধরে ঠিক করা হয় না। মূলত ভাদ্র মাসের সংক্রান্তিকেই এই পুজোর দিন হিসেবে ধরা হয়। মূলত সূর্যের অবস্থানের উপর নির্ভর করে এই সংক্রান্তির দিনটি ঠিক করা হয়। সূর্য যখন সিংহ রাশি পেরিয়ে কন্যা রাশিতে প্রবেশ করে, সেই সময়টাকে বলা হয় “কন্যা সংক্রান্তি”। আর এই কন্যা সংক্রান্তির দিনই দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার আরাধনা করার প্রচলন রয়েছে। অর্থাৎ বিশ্বকর্মা পুজোর তারিখের সঙ্গে সরাসরি যোগ রয়েছে সূর্যের রাশি পরিবর্তনের। বিষয়টি বিজ্ঞান সম্মত তাই এখানে অন্যান্য পুজোর মতন তারিখ এগিয়ে বা পিছিয়ে যাওয়ার কোনও উপায় নেই।

চান্দ্র তিথি নির্ভর অনেক উৎসবের ক্ষেত্রে চাঁদের গতি বিধির কারণে ইংরেজি ক্যালেন্ডারে তারিখ প্রত্যেক বছর বছর এগিয়ে-পিছিয়ে যায়। বিশ্বকর্মা পুজোর ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। এই পুজোর দিনটি নির্ধারণ করার জন্য একমাত্র সূর্য অর্থাৎ সৌর গণনাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলা পঞ্জিকার হিসাব অনুযায়ী ভাদ্র সংক্রান্তি সাধারণত ইংরেজি ক্যালেন্ডারের ১৭ সেপ্টেম্বরের কাছাকাছি পড়ে। সেই কারণেই দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের কাছে ১৭ সেপ্টেম্বরই বিশ্বকর্মা পুজোর নির্দিষ্ট দিন হিসেবে পরিচিতি পেয়ে এসেছে। ২০২৬ সালেও ১৭ সেপ্টেম্বরই কন্যা সংক্রান্তিতে বিশ্বকর্মা পুজো পালিত হবে।

তবে তারিখটা যে একেবারে বাঁধাধরা তেমনটা কিন্তু নয়। এর ব্যতিক্রমও আছে। পঞ্জিকার গণনায় কোনও একটি বিশেষ বছরে ভাদ্র সংক্রান্তির দিনটির যদি সামান্য পরিবর্তন ঘটে তাহলে বিশ্বকর্মা পুজোর তারিখও এক দিন এগিয়ে বা পিছিয়ে যেতে পারে। এর আগেও ১৭-এর বদলে ১৮ সেপ্টেম্বরে এই পুজো পালিত হয়েছে। তাই আসলে “১৭ সেপ্টেম্বর” নয়, ভাদ্র সংক্রান্তি বা কন্যা সংক্রান্তিই বিশ্বকর্মা পুজোর আসল ভিত্তি।

আরও পড়ুন: রাধা অষ্টমী ২০২৬ কত তারিখে? দেখুন দিনক্ষণ, সময়সূচি ও পালনের নিয়ম

ভারতীয়দের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী বিশ্বকর্মাকে দেবতাদের শিল্পী ও নির্মাতা হিসেবে মানা হয়। তাই তাঁর পুজোর সঙ্গে কাজের জায়গা, যন্ত্রপাতি এবং যন্ত্র-নির্ভর শিল্পের বিশেষভাবে যোগ রয়েছে। কলকারখানা থেকে গ্যারেজ, বিভিন্ন জায়গায় এই দিনে যন্ত্রপাতির পুজো করা হয়। বিশ্বকর্মার আরাধনা করে কর্মীরা তাঁদের কাজ ও দক্ষতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং নিজেদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির আশীর্বাদ চেয়ে নেন। ফলে বিশ্বকর্মা পুজো শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, প্রতিটি মানুষের কর্মজীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি বিশেষ দিন।