সৌভিক মুখার্জী, তারাপীঠ: এ বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে রাধা অষ্টমী কত তারিখে (Radha Ashtami 2026)? আসলে প্রতি বছর রাধা অষ্টমীর দিন কৃষ্ণ ভক্তরা তার চিরন্তন প্রিয়তমা রাধারানীর উপস্থিতিকে সম্মান জানিয়ে থাকেন, এবং রাধাকৃষ্ণের পূজা করেন। কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর মাত্র ১৫ দিন পরে আসে এই রাধা অষ্টমী। তবে আজকের প্রতিবেদনে আমরা জানাবো, এ বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে রাধা অষ্টমী কত তারিখে, সময়সূচি কী রয়েছে, কীভাবে পালন করবেন সহ সমস্ত তথ্য।
রাধা অষ্টমী ২০২৬ (Radhashtami 2026)
প্রথমেই জানিয়ে রাখি, রাধা অষ্টমী কৃষ্ণের ঐশ্বরিক স্ত্রী এবং প্রেমিকা রাধার জন্যই নিবেদিত। শ্রী রাধার জন্মদিন উদযাপন করেই পালন করা হয় এই দিনটি। বৈষ্ণবদের কাছে রাধা কৃষ্ণের প্রধান সঙ্গিনী হিসেবেই পরিচিত। আর তাঁকে তাঁর ঐশ্বরিক শক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। সেই শক্তি যার মাধ্যমে তিনি আনন্দ এবং ভালোবাসা অনুভব করেন। অনেক পরিবার রাধাকে দেবী লক্ষ্মীর রূপ হিসেবেও দেখে থাকেন। যার কারণে এই দিনটি বৈবাহিক সম্প্রীতির সঙ্গেও যুক্ত। আর দম্পতিরা প্রায়শই ব্রত পালন করে থাকেন এই দিনটিতে।
রাধা অষ্টমী ২০২৬ কত তারিখে? (Radha Ashtami 2026 Date And Time)
দৃক পঞ্জিকা অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, এ বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে রাধা অষ্টমী পড়ছে—
- ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার।
- বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই দিনটি পড়ছে ২ আশ্বিন ১৪৩৩।
- অষ্টমী তিথি শুরু হচ্ছে ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুর ১:০১ মিনিটে।
- অষ্টমী তিথি শেষ হচ্ছে ১৯ সেপ্টেম্বর বিকাল ৩:২৭ মিনিটে।
- মধ্যাহ্ন পূজার শুভ সময় পড়ছে ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১১:১৯ থেকে দুপুর ১:৪৫ পর্যন্ত।
আসলে হিন্দু ধর্মে ভাদ্র মাসের শুক্ল পক্ষের অষ্টমী তিথির দিন এই রাধা অষ্টমী পালন করা হয়।
রাধা অষ্টমী ২০২৬ মূল বিষয়বস্তু
|
বিষয় |
তথ্য |
|
উৎসবের নাম |
রাধা অষ্টমী ২০২৬ |
|
ইংরেজি তারিখ |
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ |
|
বাংলা তারিখ |
২ আশ্বিন, ১৪৩৩ |
| অষ্টমী শুরু |
১৮ সেপ্টেম্বর দুপুর ১:০১ |
| অষ্টমী শেষ |
১৯ সেপ্টেম্বর বিকাল ৩:২৭ |
| বিশেষ মাহাত্ম্য |
রাধার জন্মদিন |
রাধারানীর জন্মের পুরনো গল্প
কথিত রয়েছে যে, রাধারানী মথুরার নিকটবর্তী বরসানায় রাজা বৃষাভানু এবং রানী কীর্তির কন্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। জানা যাচ্ছে, বৃষাভানু শিশু রাধাকে যমুনার তীরে তাঁর প্রাসাদের মাঠে প্রস্ফুটিত পদ্মের উপর বিশ্রাম নিতে দেখেছিলেন। সেই কারণেই পদ্মফুল রাধার অনেক প্রিয় এবং তাঁর পূজায় প্রয়োজন পড়ে। এমনকি আরও এক তথ্য বলছে, শিশুটি প্রথমে চোখ খোলেনি। তবে পরে শিশু কৃষ্ণকে তাঁর সামনে আনার পরে তিনি চোখ খুলে তাঁকে দেখেন।
রাধা অষ্টমীর পূজাবিধি
রাধা অষ্টমী পূজার জন্য বিশেষ কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়। তবে এর জন্য পুরোহিত বা অনেক সামগ্রীর প্রয়োজন পড়ে না। শুধুমাত্র পরিষ্কার জায়গা ও নিজের ভিতরে ভক্তি যথেষ্ট।
- প্রথমে সূর্যোদয়ের আগে ঘুম থেকে উঠে স্নান করে নিন এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পোশাক পরুন।
- তারপর মন্দিরটি পরিষ্কার করুন এবং প্রতিমার জন্য একটি নতুন কাপড় বিছিয়ে দিন।
- এরপর দেবতার মুখোমুখি হয়ে বসুন এবং আপনার ডান হাতে সামান্য জল নিয়ে নীরবে ব্রত ও ভক্তির মন্ত্র জপ করুন।
- এরপর আপনার মূর্তি উপযুক্ত হলে দুধ, দই, মধু, ঘি এবং সামান্য চিনি দিয়ে দেবতাকে স্নান করান।
- এরপর নতুন জামাকাপড় পরান এবং তিলক ও গহনা নিবেদন করুন। পাশাপাশি একটি ময়ূরের পালক এবং একটি বাঁশি রাখুন।
- এরপর রাধারানীকে ফুল এবং মালা অর্পণ করুন। বিশেষ করে গাঁদা, জুঁই বা গোলাপ ফুল দরকার পড়ে।
- ধূপ জ্বালিয়ে দেবতার সামনে ধীরে ধীরে নিবেদন করুন।
- এরপর রাধাকৃষ্ণের সামনে মিষ্টি ফল, মাখন, মিছরি রাখুন।
- এরপর রাধার নাম জপ করুন এবং ভজন গান গাইতে পারেন। তারপর আরতি দিয়ে পূজা শেষ করে পরিবারকে প্রসাদ বিতরণ করুন।
রাধা অষ্টমী উপবাসের নিয়ম
বেশিরভাগ ভক্ত রাধা অষ্টমীর দিন ভোর থেকে মধ্যাহ্ন পূজা পর্যন্ত উপবাস করে থাকেন। তারপর প্রসাদ দিয়েই উপবাস ভঙ্গ করেন। তবে ব্রত রাখার দুটি সাধারণ উপায় হল—
- এদিন সকাল থেকে দুপুরের পূজা পর্যন্ত নির্জলা উপবাস রাখতে হয়। তবে আপনি যদি অসুস্থ বা গর্ভবতী হয়ে থাকেন, তাহলে এটিকে এড়িয়ে চলাই ভালো।
- এর পাশাপাশি সারাদিন ফল, দুধ বা ব্রত বান্ধব খাবারের উপর হালকা উপবাস করতে পারেন, যেটি পরিবারের জন্য উপযুক্ত।
তবে আপনি যদি ফলাহার ব্রত রাখেন, তাহলে নিম্নলিখিত খাবারগুলি খেতে পারেন—
- তাজা এবং শুকনো ফল, দুধ, দই, পনির।
- সাবুদানা, খিচুড়ি।
- আলু এবং মিষ্টি আলু, সৈন্ধব লবণ।
- ক্ষীরের মতো সাধারণ মিষ্টি।
রাধারানীকে এদিন কী কী দিতে হয়?
রাধা অষ্টমীর জন্য সেরা নৈবেদ্য হল পদ্ম এবং অন্যান্য তাজা ফুল, দুধের মিষ্টি, মৌসুমী ফল এবং গোলাপী বা গেরুয়া রং। তবে রাধার জন্মের গল্প পদ্মের সঙ্গে যুক্ত এবং ফুল তাঁর অত্যন্ত প্রিয় হওয়ায় বেদীর উপর গোলাপ ফুলের মালা রাখতে পারেন। তার পাশাপাশি পূজার আগে দেবীর জন্য পঞ্চামৃত বানাতে হবে। এছাড়া গোলাপী ও গেরুয়া কাপড় দান করতে পারেন। আর ময়ূর পালক ও বাঁশি দরকার পড়ে।










