অনন্যা সরকার, কলকাতা: ঢাকে কাঠি পড়তে আর কয়েকটা দিনের অপেক্ষা। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে পুজোর প্রস্তুতি। পুজোর সময় নতুন জামার সাথে জেল্লাদার ত্বক কে না চায়! কিন্তু আজকালকার দিনে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও বাড়তে থাকা দূষণের কারণে ত্বকের সমস্যায় এখন ঘরে ঘরে। কারও সমস্যা রুক্ষ শুষ্ক ত্বক, আবার কেউ অভিযোগ করেন অনেক যত্ন (Skin Care)nনিয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত উজ্জ্বলতা। তবে সারা বছর যেমন তেমনভাবে চললেও পুজোর আগে সবাই সেই হারানো উজ্জ্বলতা ফিরে পেতে চান। তাই, মাসখানেক আগে থেকেই পুরোদমে রূপচর্চা শুরু হয়ে যায়। কিন্তু, দামী দামী সব প্রসাধনী ব্যবহার করলেই যে সবসময় ফল পাওয়া যাবে, তার কোনও মানে নেই। এর পরিবর্তে, ঘরে প্রাকৃতিক উপাদান তৈরি ক্রিম (Homemade Cream) ব্যবহার করে দেখতে পারেন। টানা সাত দিন ব্যবহার করলে আপনার ত্বকে ফিরে আসবে টানটান ভাব ও উজ্জ্বলতা। এই পুজোয় আপনার ত্বকের জেল্লা হয়ে উঠবে সবার আলোচনার বিষয়।
কীভাবে বানাবেন এই ঘরোয়া ক্রিম?
এই ক্রিম বানাতে খুব বেশি উপকরণের দরকার নেই। ৬-৭টি কাঠবাদাম (Almond) এবং আধ কাপ চাল ধুয়ে সারারাত জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরের দিন, বাদাম ও চাল ভেজানো জল একসাথে ব্লেন্ড করতে হবে। তবে এখানে খেয়াল রাখবেন জলের পরিমাণ যেন খুব বেশি না হয়ে যায়। ব্লেন্ড করা মিশ্রণটি একটি পরিষ্কার সুতির কাপড়ের মধ্যে দিয়ে ছেঁকে নিতে হবে। এরপর, মিশ্রণটিতে এক চামচ অ্যালোভেরা জেল ও কয়েকটি জাফরান যোগ করে সবকিছু আবার ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এই ক্রিমটি মুখে লাগিয়ে দুই মিনিট ম্যাসাজ করে পরদিন সকালে ফেস ওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। আর যদি দিনের অন্য সময়ে ব্যবহার করতে চান, তাহলে ২০ মিনিট রেখে তারপর ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি দিনে দুবার ব্যবহার করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যাবে।
বাদামে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন ই, ভিটামিন বি-৭ এবং জিঙ্কের মতো পুষ্টিকর উপাদান, যা ত্বকে জলের মাত্রা বাড়ায় এবং ময়েশ্চারাইজ করে। বাদাম ত্বককে পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। এতে ব্ল্যাকহেডস এবং ব্রণ প্রতিরোধ ক্ষমতাও রয়েছে। অন্যদিকে, চাল ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এবং ত্বকের নানা সমস্যা দূর করতে কার্যকর। চাল মুখের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতেও সাহায্য করে। এর পাশাপাশি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ জাফরান ত্বককে উজ্জ্বল করে ও স্বাভাবিক জেল্লা ফিরিয়ে আনে। এটি ত্বকে মেলানিন তৈরি করতে এবং হাইপারপিগমেন্টেশন, ডার্ক স্পট কমাতেও বিশেষভাবে উপযোগী।
আরও পড়ুন: সর্পগন্ধার মূল কি সত্যিই সাপের হাত থেকে বাঁচায়? আসল সত্যিটা কী জানুন
তবে, শুধু একটি ক্রিমের ওপর নির্ভর করলে দ্রুত উজ্জ্বলতা পেতে সমস্যা হতে পারে। এরজন্য আপনাকে মেনে চলতে হবে একটি নির্দিষ্ট সি-টি-এম (CTM) রুটিন। এই রুটিনের মধ্যে রয়েছে দিনে দুবার ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা, তারপর টোনার লাগানো এবং সবশেষে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা। ফেস সিরামও ব্যবহার করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপূজা ২০২৬ কত তারিখে? দেখুন দিনক্ষণ, সময়সূচি ও আচারবিধি
এই প্রতিটি ধাপ মেনে চললে, কয়েক দিনের মধ্যেই আপনার ত্বকের হারানো দীপ্তি ফিরে পাবেন। এছাড়া, বাড়ির বাইরে যাওয়ার আগে সানস্ক্রিন লাগানো আবশ্যক। শুধু রোদে নয়, আকাশ মেঘলা থাকলেও সানস্ক্রিন মাস্ট। সপ্তাহে একবার করে ত্বককে এক্সফোলিয়েট করুন। ত্বক শুষ্ক, তৈলাক্ত, মিশ্র না স্বাভাবিক – তা নির্ধারণ করে পছন্দের স্ক্রাব বেছে নিন। মুখের চামড়ার ওপর থেকে যখন মৃত কোষ পরিষ্কার হয়ে যায়, তখন রন্ধ্রে রন্ধ্রে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায়। এটিও উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে।










