প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিগত কয়েকদিন ধরেই রাজ্য সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র (Annapurna Yojana) টাকা না পাওয়াকে কেন্দ্র করে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে জেলায় জেলায়। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না বলে সরকারকে রীতিমত তুলোধোনা করে চলেছে সকলে। কোথাও রেল অবরোধ, কোথাও পথ অবরোধ, কোথাও আবার পঞ্চায়েত কিংবা পুরসভা কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন ক্ষুব্ধ মহিলারা। এই অবস্থায় মহিলাদের এই বিক্ষোভের জন্য তৃণমূলকেই দায়ী করলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।
তৃণমূলকেই টার্গেট করলেন দিলীপ ঘোষ
রিপোর্ট অনুযায়ী আজ, শনিবার ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মুখোমুখি হয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। সেখানে এই অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে মহিলাদের ক্ষোভ বিক্ষোভ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি রীতিমত পূর্বতন সরকারকে দায়ী করেছিলেন। দিলীপ ঘোষ বলেন, “অভ্যাস হয়ে গিয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে। এটাও জানা উচিত, সব সুবিধা সকলের জন্য নয়। কেন্দ্রীয় সরকার নানা প্রকল্প করেছে। রাজ্য সরকারও করেছে। তার একটা সীমা আছে। তার জন্য ক্রাইটেরিয়া ঠিক করা আছে। এর মধ্যে যাঁরা পড়বেন, তাঁরা পাবেন। দানধ্যান সবাইকে দেওয়া হবে, এই অভ্যাসটা খারাপ করে দিয়েছে তৃণমূল। এটা সবাইকে বুঝতে হবে। এটা চলতে পারে না।”
দফায় দফায় বিক্ষোভ মহিলাদের
রাজ্য সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অন্নপূর্ণা যোজনায় নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে উপভোক্তা মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। গত ১৭ আগস্ট থেকে তৃতীয় দফায় টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল রাজ্য সরকার। সেই সময় রাজ্যের বহু মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে গেলেও, মাস তিনেক আগে ফর্ম পূরণ করেও একটা বড় অংশ সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ। আর তাই নিয়ে রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল তাণ্ডব। জেলায় জেলায় বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন মহিলারা। রাজ্য সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেকেই আবার রাস্তা, রেললাইন অবরোধ করেছে। আর সেই তুমুল বিশৃঙ্খলার মধ্যে দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য নয়া আকার ধারণ করেছে।
আরও পড়ুন: বিদ্যুৎ বিলে ১০০% ভর্তুকি! রাজ্যবাসীকে স্বস্তি দিয়ে বড় ঘোষণা বিজেপি সরকারের
প্রসঙ্গত, গতকাল, শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসকের দপ্তরে অগ্নিমিত্রা পালকে ঘিরেও বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন মহিলারা। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য বাধ্য হয়ে জেলা শাসকদের বৈঠক থামিয়ে দিয়ে নিচে নেমে এসেছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সকলকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন এবং এই বিক্ষোভের নেপথ্যে তৃণমূলের যোগসাজশ দেখছেন বলেও অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি বলেন, ““আমার মা-বোনেদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে। আবেদন আপলোড করতে একটু সময় লাগবে। বলতে খারাপ লাগছে, অনেক তৃণমূলের লোক ভিতরে বসে রয়েছে। অনেক গণ্ডগোল পাকাচ্ছে। আমি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকেও জানাচ্ছি।” যদিও রাজ্য জুড়ে এখনও থামেনি মহিলাদের বিক্ষোভ।










