সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এমনিতেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ নিয়ে শিরেসংক্রান্তি অবস্থা কালীঘাট তৃণমূলের (Kalighat Trinamool)। অনেকদিন আগেই ভাঁড়ারে টান পড়েছে তাদের। তবে এবার নাকি অফিস চালানোর জন্য পর্যাপ্ত টাকা নেই মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের। এমনকি টাকা চেয়ে হাইকোর্টের তৈরি কমিটিকে তারা চিঠি দিতে চলেছে বলেই খবর। জানা গিয়েছে, আগামী সপ্তাহে বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের কমিটিকে এই চিঠি দেওয়া হতে পারে।
চরম আর্থিক সংকট কালীঘাট তৃণমূলের
বিধানসভা নির্বাচনের পরপরই দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায় তৃণমূল কংগ্রেস। একদল যায় ঋতব্রত শিবিরে। যদিও সেখানে সিংহভাগ বিধায়কের সমর্থন থাকায় তাদেরকেই বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি দেয় বিধানসভা। এমনকি কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবেই বহাল রাখার ক্ষেত্রে রায় দিয়েছে। তবে তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে টাকার গরমিল রয়েছে এই অভিযোগ তোলে ঋতব্রত শিবির। সেই কারণেই ইডি কালীঘাট তৃণমূলের একাধিক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেয়। এমনকি ৪৪০ কোটি টাকার কোনও হিসাব নেই বলেই দাবি তদন্তকারী সংস্থার।
তবে সেই ইস্যু নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। তাদের দাবি ছিল, অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহার করে অন্তত কর্মীদের বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করা। তবে হাইকোর্ট সমস্ত দিক বিবেচনা করে আপাতত একজন স্পেশাল অফিসার নিয়োগ করে। এবং তাঁর তত্ত্বাবধানেই দলীয় অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি প্রত্যেকটি লেনদেনের রিপোর্ট আদালতকে জমা দিতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে আর্থিক টানাটানি মিটছে না তাদের। অফিস চালানোর পর্যাপ্ত টাকা নেই মমতা শিবিরের।
আরও পড়ুন: ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই বদলাতে হবে চেকবুক, নিয়ম না মানলেই ৫০ হাজার টাকা ফাইন
আসলে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত স্পেশাল অফিসারের কমিটির কাছেই এবার টাকা চেয়ে চিঠি পাঠাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের কালীঘাটপন্থী শিবির। দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন আর আইনের জটিলতার জেরে ফ্রিজ হয়ে থাকা দলীয় অ্যাকাউন্ট থেকে দৈনন্দিন ও আইনি খরচ মেটানো তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে যেহেতু সুব্রত তালুকদারকে হাইকোর্ট স্পেশাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ করেছিল, তাই এবার সেই খরচ চালানোর জন্যই এই পদক্ষেপ কালীঘাট তৃণমূলের।










