সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এবার খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মৃত্যুকামনা করে বসলেন নওদার বিধায়ক তথা মুর্শিদাবাদের বিতর্কিত নেতা হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। প্রথম থেকেই নিজের দল আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। তবে এবার রেজিনগর উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুভেন্দু অধিকারীর দ্রুত মৃত্যুর জন্য প্রার্থনা করবেন তিনি, এমনটাই দাবি করে বসলেন এজেইউপি নেতা।
মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক হুমায়ুন কবীর
মিডিয়ার সামনে এদিন হুমায়ুন বলেন, “উনি এখন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন তো, তাই হাতির পাঁচ পা দেখেছেন। আস্ফালন দেখাচ্ছেন। এ যত তাড়াতাড়ি পৃথিবী থেকে বিদায় হয়ে যায়, উপরওয়ালা যেন ওঁকে ওঁর টিকিট কাটিয়ে দেয়, হঠাৎ করে যেন ওই ছত্তিশগড়ের একজন, তারপর মহারাষ্ট্রের একজন শারদ পাওয়ারের ভাইপো অজিত পাওয়ারের, কীভাবে কিছুদিন আগে মৃত্যু হয়েছে। ছত্তিশগড়ের একজন মুখ্যমন্ত্রী ছিল কংগ্রেসের, তাঁর কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, সব উপরওয়ালার খেলা। মাধব রাও সিন্ধিয়া গোয়ালিয়রের রাজা, তাঁর কীভাবে মৃত্যু হয়েছিল, ইন্দিরা গান্ধীকে কীভাবে যেতে হয়েছে, রাজীব গান্ধীকে কীভাবে যেতে হয়েছে, এনার এত অহংকার, অহংকারের পতন হবে।”
হুমায়ুন আরও বলেন, “এনাকে এইভাবেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। আল্লাহর কাছে বলব, আমাদের যেমন এইভাবে তাঁর পুলিশ দিয়ে, রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে, আমরা রাত জেগে জেগে লুকিয়ে বেড়াচ্ছি, চুরি করে বেড়াচ্ছে আমাদের কর্মীরা, তাঁরা কী করবেন? ওর জন্য বদদোয়া দেব না তো ও প্রধানমন্ত্রী হোক তাই বলব নাকি? যত তাড়াতাড়ি উপরওয়ালা টিকিট কাটিয়ে দেয়, সেটাই তো আমরা দোয়া করব।”
আরও পড়ুন: আরামবাগে তুঙ্গে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, নব্য বনাম পুরনোর লড়াইয়ে আহত একাধিক
যদিও কিছুদিন আগেই হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত মন্তব্যের বিরুদ্ধে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে হুমায়ুনের এই মন্তব্য সামনে আসতেই ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি জানিয়েছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার রাজনীতিকে এই কদর্য জায়গায় নিয়ে গিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রোডাক্ট। কোথাও কোনও অস্তিত্ব নেই। মিডিয়াতে কথা বলে বেঁচে আছে। এরা মানুষ? মুখ্যমন্ত্রীকে ছাড়ুন। কোনও মানুষকে নিয়ে এরকম কথা বলা যায়?”










