‘গুজব ও ভিত্তিহীন!’ পশ্চিমবঙ্গে আইপ্যাকের কাজ বন্ধের ভুয়ো খবর নিয়ে সরব তৃণমূল

Published:

IPAC Stopped Work

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আর হাতে গোনা চারটে দিন বাকি। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল বাংলায় দুই দফায় নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। এ নিয়ে রাজ্যের শাসকদল থেকে শুরু করে বিরোধীদলের মধ্যে কোন্দল লেগেই রয়েছে। তবে ভোট গ্রহণের আগেই বিরাট ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গে নাকি সমস্ত কাজ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা করেছে তাদের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক (IPAC Stopped Work)। নির্দিষ্ট কিছু বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে আগামী ২০ দিন তারা কাজ করবে না বলে ইমেইল মারফত জানিয়েছে। এমনই খবর ঘুরে বেড়াচ্ছে সংবাদমাধ্যমগুলিতে। অবশেষে মুখ খুলল এআইটিসি।

বাংলায় কাজ বন্ধের নির্দেশ আইপ্যাকের?

সংবাদমাধ্যমগুলি দাবি করছে, গতকাল আইপ্যাকের তরফ থেকে একটি ইমেইল করা হয়। সেখানে জানানো হয়েছে, কর্মীদের আগামী ২০ দিনের জন্য সাময়িক ছুটিতে পাঠানো হচ্ছে। ১১ মে-র পর আবারও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে, এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হবে। কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে নাকি জানানো হয়েছে যে, আইনি বাধ্যবাধকতার কারণেই পশ্চিমবঙ্গে তারা আপাতত কাজ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

ইমেইলে আইপ্যাক কর্মীদের স্পষ্ট বলা হয়েছে, “আমরা আইনকে শ্রদ্ধা করি। গোটা প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছি। নির্দিষ্ট সময়ে বিচার মিলবে। আমরা এটা নিশ্চিত। আপনারা শুধু একটু ধৈর্য ধরুন। কোনও দরকার হলে কর্মীরা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে।” তবে তাদের এই সিদ্ধান্তে যে শাসকদলের উপর বিরাট চাপ পড়ল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ, ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণা। আর আইপ্যাক যে ২০ দিনের বিরতি চেয়েছে তার মধ্যে বাংলায় ভোট প্রক্রিয়া মিটে যাবে। এমনকি নতুন সরকারও গঠিত হবে।

এদিকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের যে সদর দপ্তর রয়েছে, সেখানে শনিবার বিভিন্ন বিধানসভায় কর্মরত কর্মীদের ডেকেও পাঠিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। আর সেখানে বেশ ভিড় জমায়েত হয়েছিল বলেও খবর, যা নিয়ে আরও রহস্য দানা বাঁধে। তবে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরবর্তী ২০ দিন তৃণমূল কীভাবে কাজ করবে বা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে কিনা সে বিষয়ে তৈরি হচ্ছিল জলঘোলা। যদিও ভোটের আগে আইপ্যাকের এই সিদ্ধান্ত তৃণমূলের ভোট ব্যাঙ্কের উপর বিরাট চাপ ফেলতে পারে, এমনটাও মত প্রকাশ করে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

দাবি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিল তৃণমূল

প্রসঙ্গত, আজ সকাল থেকেই এই খবরে রমরমা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বাংলা সংবাদমাধ্যমগুলি। তবে বেলা বারোটা নাগাদ তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে বিবৃতি জারি করে জানিয়ে দেওয়া হল যে, এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর। শাসকদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইপ্যাকের টিম রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে দলের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। প্রচারের সমস্ত পরিকল্পনা এবং অপারেশনে যোগদান করছে তারা। পূর্বনির্ধারিত সূচি মেনেই সবকিছু হচ্ছে। নির্বাচনের মুখে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্যই বিরোধীরা এই ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে।

আরও পড়ুন: জ্ঞানেশ কুমারকে গদিচ্যুত করতে মরিয়া, ফের ইমপিচমেন্ট নোটিশের প্রস্তুতি বিরোধীদের

উল্লেখ্য, আইপ্যাকের কলকাতা সদর দফতর ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনর বাড়িতে সম্প্রীতি হানা দিয়েছিল ইডি, এবং খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে পৌঁছন। অভিযোগ ওঠে, তিনি বেশ কিছু ফাইল হাতে নিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যান, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায়। কটাক্ষ করতে ছাড়ে না বিরোধীরা। এখনও পর্যন্ত এই মামলা শীর্ষ আদালতে বিচারাধীন। পাশাপাশি কয়লা কেলেঙ্কারি তদন্তের সূত্রে দিল্লিতে আইপ্যাকের পরিচালক ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করে ইডি। তিনি এখন কেন্দ্রীয় সংস্থার হেফাজতে।