সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়ে এখন ঋতব্রত শিবিরে কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra)। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর অন্য শিবিরে নাম লিখিয়েছেন তিনি। তবে এবার রাজনীতির বর্তমান চালচিত্র আর সামাজিক অবক্ষয়কে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে অন্য পথে হাঁটতে চাইলেন মদন। বললেন, “সবাই না হলেও, পলিটিক্স হ্যাজ বিকাম দ্য লাস্ট রিসর্ট অফ দ্য স্কাউন্ড্রেলস। পলিটিক্সের ওপর আমার ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই বাড়ছে না।”
রাজনীতি ছাড়ছেন মদন মিত্র?
তৃণমূলের পরাজয়ের পর সামনে আসছে একের পর এক চুরি, দুর্নীতির কারবার। চোর কিংবা চরিত্রহীন অপবাদ তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের সাথেই যেন সবচেয়ে ভালো যায়। সেই কারণেই তো আলাদা দুটো শিবিরে বিভক্ত হয়েছে টিএমসি। চাকরি দুর্নীতি থেকে শুরু করে জমি দুর্নীতি, কয়লা পাচার, বালি পাচারসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে তৃণমূলের শীর্ষস্থানীয় সব নেতার বিরুদ্ধে। এমনকি মদন মিত্রের বিরুদ্ধেও নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে বলেই খবর। তাঁর বাড়িতে পর্যন্ত হানা দিয়েছিল তদন্তকারী সংস্থা ইডি।
ঠিক এই আবহে রাজনীতির আঙিনা থেকে এবার নিজেকে সম্পূর্ণ গুটিয়ে নিতে চাইছেন বর্ষীয়ান এই বিধায়ক। তিনি জানিয়েছেন, “আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, আর নেওয়ার চেষ্টা করছি, আস্তে আস্তে কতটা পলিটিক্স থেকে সরে যাওয়া যায়। কারণ, যত দিন যাচ্ছে, পলিটিক্সের উপর আমার ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই বাড়ছে না।”
আরও পড়ুন: কোটি কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগ, প্রাক্তন পরিবহন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে শুরু তদন্ত
কামারহাটির বিধায়কের মতে, রাজনীতির আঙিনা এখন শুধুমাত্র দুষ্কৃতীদের আতুরঘর। যদিও এর আগে একাধিকবার রাজনীতি থেকে তিনি নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তবে পরবর্তী সময়ে সাংবাদিক বৈঠকে সেভাবে সরাসরি কিছু জানাননি। এদিকে সম্প্রতি শিবির পরিবর্তন করে কালীঘাট তৃণমূলের ওপরেই বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন মদন। তাঁর দাবি, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার লক্ষ্যে সই জালিয়াতি করেন তৃণমূলের বিধায়করা। সেটাই ছিল তৃণমূলের ভাঙনের মূল কারণ।










