আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: হুগলির সিংটি গুটি আতড়া বিলাসপুর কৃষি সমবায় সমিতি থেকে প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীর (Snehasis Chakraborty) ঋণ নেওয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এবার এই বিষয়টিকে তদন্তের (Investigation) আওতায় নিয়েছে সরকার। অবসরপ্রাপ্ত কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বাধীন প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বিরোধী কমিশনের আধিকারিকরা তদন্তের দায়িত্ব নেয়। জাঙ্গিপাড়া থানা এলাকার ওই সমবায় সমিতিতে ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে তারা। অভিযানের সময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহ ও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কী অভিযোগ স্নেহাশিসের বিরুদ্ধে?
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে কৃষি সমবায় থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নেওয়ার বিষয়টি। কুণাল ঘোষের দাবি, স্নেহাশিস চক্রবর্তী কৃষক না হওয়া সত্ত্বেও ওই সমবায় থেকে ৮৫ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। পাশাপাশি তাঁর এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ার নামে আরও ১০ লক্ষ টাকা ওই সমবায় থেকে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। অর্থাৎ কুণাল ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, মোট অঙ্ক দাঁড়ায় ৯৫ লক্ষ টাকা। সূত্র অনুযায়ী এই ঋণের অঙ্ক বর্তমানে এক কোটি। ফলে সুনির্দিষ্ট ঋণের পরিমাণ এবং কীভাবে তা মঞ্জুর হয়েছিল, সেটা তদন্তের পরেই জানা সম্ভব।
সমবায়টির ঋণ দেওয়ার এমন নিয়ম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট এলাকার কৃষক এবং যোগ্য সদস্যদেরই কৃষি ঋণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। সেক্ষেত্রে স্নেহাশিস চক্রবর্তী কী যোগ্যতায় অতগুলো টাকার ঋণ পেয়েছিলেন এবং ঋণ অনুমোদনের সময় সমবায়ের নিয়ম মেনে চলা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আগেই শুরু হয়েছিল পুলিশি তদন্ত
এটাই প্রথম নয়, এই সমবায় সমিতিকে ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আগেও উঠেছিল। এক গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে এর আগে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছিল। সেই তদন্তে সমবায়ের ম্যানেজার স্বপন পাত্র এবং কর্মী রমেশ পাত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে স্বপন পাত্র জামিনে মুক্তি পেয়ে যান।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর স্নেহাশিস চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে সরব হন কুণাল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, কৃষক না হয়েও কীভাবে প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষি সমবায় থেকে ঋণ পেলেন? ঋণ পরিশোধ করা হয়ে থাকলে সেই টাকা কোথা থেকে এল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন কুণাল। একটি বিতর্কে স্নেহাশিস চক্রবর্তীকে সরাসরি নিশানা করে তিনি জানতে চান, তিনি কি আদৌ কৃষক? সমবায় থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর কী কী যোগ্যতা ছিল? ঋণের টাকা কীভাবে এবং কার মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছিল, তার উৎসও খতিয়ে দেখার দাবি জানান কুণাল ঘোষ।
কুণাল ঘোষের অভিযোগের পাল্টা জবাবও দিয়েছেন স্নেহাশিস চক্রবর্তী। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয়বস্তু ছিল, কুণাল ঘোষ ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে তিনি কোন উত্তর দেননি, বরং কুণালের অতীতের সারদা-সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে পাল্টা প্রশ্ন করেন।
পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার বর্তমানে ২০১১ থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন দফতর ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে ওঠা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। এর জন্য সরকার একটি বিচারবিভাগীয় কমিশন গঠন করেছে। সেই কমিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শিক্ষা, খাদ্য ও জোগান, ত্রাণ, পুরসভা-পঞ্চায়েত, আবাসন, মৎস্য, শিল্প, পূর্ত, ভূমি-সহ একাধিক ক্ষেত্রের অভিযোগ কমিশনের তদন্তের আওতায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: অক্টোবরে ১২ দিন বন্ধ দোকান, সপ্তমীর আগেই রেশন তোলার পরামর্শ গ্রাহকদের
এই বৃহত্তর তদন্তের অংশ হিসেবেই এবার সিংটি কৃষি সমবায় সমিতির ঋণ সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সমবায়ের নথি পরীক্ষা করে ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগ্যতা এবং অর্থের লেনদেন ঠিক কীভাবে হয়েছিল সেই সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।










