প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বহু লড়াই, জনসভা, মিটিং এবং মিছিল করে অবশেষে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। দুই তৃতীয়াংশর বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তৃণমূলের ১৫ বছরের সরকারকে ভেঙে গুড়িয়ে দিল মুহূর্তের মধ্যে। বাংলার জনগণ প্রমাণ করে দিল যে প্রত্যাবর্তন নয় এবার পরিবর্তন চায়। আর সেই কথা মাথায় নিয়েই আউসগ্রাম (Ausgram) বিধানসভা কেন্দ্রে জিতলেন কলিতা মাজি (Kalita Maji)। পরিচারিকা থেকে হয়ে উঠলেন বিধানসভার নয়া মুখ।
পরিচারিকার কাজ করতেন কলিতা মাজি
গুষকাড়া পুরসভার বাসিন্দা কলিতা মাজি সংসার চালানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে তাঁরই এলাকার চারটি বাড়িতে কাজ করতেন। মাসে মিলত ২৫০০ টাকা। দিনের পর দিন সংসার চালাতে হিমশিম খেলেও মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাঁর ইচ্ছে ছিল। আর সেই সূত্রেই তিনি যোগ দিয়েছিলেন রাজনীতিতে। ২০২১ সালেও তিনি তৃণমূল প্রার্থী অভেদানন্দ থান্ডারের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন, কিন্তু সেবার ওই আসনে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী অভেদানন্দ থাণ্ডার। ১১ হাজার ৮১৫ ভোটে পরাজয় হয়েছিল তাঁর। কিন্তু থেমে যায়নি কলিতা দেবীর লড়াই। আর সেই আস্থার জোরেই এবার জয়ী হয়ে বিধানসভার নতুন মুখ হলেন তিনি।
বিপুল ভোটে জয়লাভ বিজেপি প্রার্থীর
কমিশনের রিপোর্ট মোতাবেক, পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাজি পেয়েছেন ১ লক্ষ ৭ হাজার ৬৯২ ভোট। যা ওই একই আসনে থাকা তৃণমূল প্রার্থী শ্যাম প্রসন্ন লোহার থেকে ১২ হাজার ৫৩৫ ভোটের থেকে বেশি। আনন্দে উচ্ছ্বসিত গোটা এলাকা। আসলে এক সাধারণ মহিলা থেকে বিধায়ক কলিতা মাজির এই উত্থান যেন রাজনীতির মাঠে এক নিম্নবিত্ত মানুষের অনন্য স্বপ্নপূরণের গল্প, যা বাস্তবিক রূপ ধারণ করেছে। বাড়িতে রয়েছেন স্বামী ও এক ছেলে। ছেলে এবছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। মায়ের এই সাফল্যে খুব খুশি তিনি।
আরও পড়ুন: বঙ্গে গেরুয়া ঝড়, নবান্ন বাদে রাইটার্স থেকে চলবে রাজ্য সরকার? জল্পনা তুঙ্গে
সদ্য নির্বাচিত বিধায়কের প্রথম কাজ কী হতে চলেছে জিজ্ঞাসা করা হলে উত্তরে কলিতা মাজি জানিয়েছেন, “ওইসব নিয়ে এখনই কিছু ভাবছি না। পরে সিদ্ধান্ত নেব। তখনই আপনাদের জানাব।” এইমুহুর্তে তিনি তাঁর জয়ের আনন্দ ভাগ করে নিতে চাইছেন বহু মানুষের সঙ্গে। তাঁর এই জয়ের আনন্দে কোথাও বাজনা বাজছে কোথাও আবার গেরুয়া আবিরে রাঙিয়ে দিচ্ছে একে অপরকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কলিতা মাজির এই উত্থান আসলে শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, তাঁর এই জয় আসলে বাংলার বদলে যাওয়া সামাজিক বাস্তবতারও প্রতিফলন।










