প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বাংলায় প্রথম দফা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) আর বাকি মোটে ৬ দিন। তাই জনসংযোগ বৃদ্ধি এবং প্রচার পর্বে যাতে কোনো ত্রুটি না থেকে যায় তার জন্য দফায় দফায় জনসভা করে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমতাবস্থায় আজ, কোচবিহারের (Cooch Behar) রাসমেলা ময়দান থেকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শুধু তাই নয় দলের নেতা-কর্মীদের একাধিক বিষয়ে সতর্ক করলেন।
মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে মমতা
রিপোর্ট মোতাবেক আজ, কোচবিহারের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের আসন পুনর্বিন্যাস বিলের বিরুদ্ধে সরব হন। তিনি বলেন, ‘আজকে যখন আমি এখানে সভা করছি, তখন ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে এসেছে। আমাকে তার জন্য নির্বাচন ছেড়ে ২১ জন সাংসদকে পাঠাতে হয়েছে লোকসভায়। নিজেরা জানে হারবে, ৫৪১ সিট আছে, তাই ওটা ৮৫০-র কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার জন্য টুকরো টুকরো করছে দেশটাকে। একদিন দেখবেন কোচবিহারটাই হারিয়ে গিয়েছে। উত্তর দিনাজপুর, দার্জিলিং, শিলিগুড়িটাই হারিয়ে গিয়েছে।’
উন্নয়ন নিতে খোঁচা মমতার
কিছুদিন আগেই নরেন্দ্র মোদী কোচবিহারে মিটিং-এ এসে বলেছিলেন যে, উত্তরবঙ্গ উন্নয়নে কিছু হয়নি। সেই নিয়ে মমতা কটাক্ষ করে বলেন, “আরে আপনি প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসে আছেন। বেশি দিন সেটাতেও থাকবেন না। কিন্তু যে ক’দিন আছেন দয়া করে তো একটু কম মিথ্যে বলুন। আমরা উত্তরবঙ্গের জন্য ১ লক্ষ ৭২ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছি। প্রধানমন্ত্রী, আপনার মুখের উপর জবাব দিয়ে যাচ্ছি। শুধুমাত্র পার্টি যা শিখিয়ে দিচ্ছে, ভোটের স্বার্থে সেটাই বলে দিচ্ছেন! আরে একটা কথা বলার আগে বার বার করে ক্রসচেক করবেন তো। এত মিথ্যের ফুলঝুরি মানুষ কিন্তু সহ্য করবে না।”
পার্টি অফিসে ED হানা নিয়ে ক্ষুব্ধ মমতা
ভোটের মুখে বারংবার ইডি হানা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ বলেছিলেন তো দেশে কালো টাকা ফিরিয়ে আনবেন। কালো টাকা আনতে পেরেছিলেন? আজকে কালো টাকার হুন্ডি নিয়ে বাংলায় বসে আছেন, আর তৃণমূলের পার্টি অফিসে গিয়ে রেড করছেন, আমার প্লেনে হানা দিচ্ছেন, প্রার্থীর বাড়িতে গিয়ে রেড করছেন। আমার সিকিউরিটিদের রেড করছেন, নির্লজ্জ, বেহায়া একটা রাজনৈতিক দল বিজেপি। সামনাসামনি লড়াই করতে পারে না।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “ওরা যে অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছে, মরণকামড় দিতে ওরা পার্টি অফিসও চেক করতে পারে। ওই বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচনের আগে ED-CBI করে কিন্তু তারপর কিছু ধরতে পারে না। আমি যদি ভয় না পাই, তাহলে আপনারা কেন পাবেন!”
আরও পড়ুন: ১৬ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে কার্যকর মহিলা সংরক্ষণ আইন, বিজ্ঞপ্তি কেন্দ্রের
উল্লেখ্য, আজ অর্থাৎ শুক্রবার ভোরে কলকাতার মনোহরপুকুর রোডে তৃণমূল নেতা দেবাশিস কুমারের বাড়িতে পৌঁছে যান আয়কর দফতরের আধিকারিকেরা। শুরু হয় দীর্ঘ তল্লাশি অভিযান। তাঁর বাসভবনের পাশাপাশি একইসঙ্গে নজরে রাখা হয় তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়ও। দু’টি জায়গাতেই একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। এছাড়াও তাঁর আরও একটি কার্যালয়, যেখান থেকে বর্তমানে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচনের কাজকর্ম পরিচালিত হচ্ছে, সেখানেও তল্লাশি করা হচ্ছে। এমনকী, দেবাশিস কুমারের শাশুড়ির বাড়িতেও তল্লাশি চালায় IT।










