সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: জেলাজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনার লাগামছাড়া বৃদ্ধি এবং তীব্র যানজটের ভোগান্তি এড়ানোর জন্য বড় পদক্ষেপ প্রশাসনের। আমজনতাকে ভোগান্তি থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য এবার পূর্ব বর্ধমান (Purba Bardhaman) জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে নেওয়া হল মানবিক সিদ্ধান্ত। জাতীয় সড়ক ১১৪ (National Highway 114) এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ দিয়ে এবার পণ্যবাহী ভারী গাড়ি চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গতকাল অর্থাৎ ১ জুন থেকেই তা কার্যকর হয়েছে।
জারি হয়েছে নতুন নির্দেশিকা
পূর্ব বর্ধমানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের আবেদনের উপর ভিত্তি করে জেলার জেলাশাসক ও কালেক্টর আইরএস শ্বেতা আগারওয়াল একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন, যার মেমোরেন্ডাম নম্বর ২৪৪/টিআর/বিডব্লিউএন। সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১ জুন ২০২৬ থেকে আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ছয় মাস ধরে বর্ধমান থানার অন্তর্গত নবাবহাট থেকে আউসগ্রাম থানার অন্তর্গত ভেড়িয়া পর্যন্ত পণ্যবাহী ভারী যান চলাচল বন্ধ থাকবে। অর্থাৎ, জাতীয় সড়ক ১১৪ এর এই অংশ দিয়ে কোনও রকম ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। তবে হ্যাঁ, প্রতিদিন সকাল ছয়টা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকছে। অর্থাৎ, রাত দশটার পর থেকে গাড়ি অনায়াসে চলাচল করতে পারবে। কিন্তু সকাল ছয়টা পর্যন্ত।
প্রশাসনের তরফ থেকে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, এই রুটে প্রায়শই বড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, এবং দিনের বেলা যানজট সৃষ্টি হয়। যার কারণে ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। আমজনতার জীবনহানি এড়াতে এবং রাস্তার যান চলাচল সুনিশ্চিত করার জন্য এই কড়া পদক্ষেপ। পশ্চিমবঙ্গ ট্রাফিক রেগুলেশন আইন ১৯৬৫ এবং মোটর যান আইনের ১১৫ ধারা অনুযায়ী এই গেজেট নোটিফিকেশন জারি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত’, পুরুলিয়ার মাদ্রাসায় বন্দে মাতরম গাওয়া নিয়ে আপত্তি
তবে সবথেকে বড় ব্যাপার, এই রুট ব্যবহার করেই কলকাতা এবং অন্যান্য জেলা থেকে বীরভূমের বিখ্যাত তারাপীঠ মন্দিরে বহু তীর্থযাত্রী এবং সাধারণ পর্যটক ভ্রমণ করেন। তবে দিনে প্রায় ১৬ ঘণ্টা পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকার কারণে লরি এবং অন্যান্য যানচালকদের যে সমস্যায় পড়তে হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যদিও এতে স্বস্তি পাবে আমজনতা।










