উঠে যাবে তৃণমূল? মমতাকে কংগ্রেসের সহ-অধ্যক্ষর প্রস্তাব সোনিয়ার! রাজ্যসভা চায় অভিষেক

Published:

Mamata Banerjee

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্ষমতার হাত থেকে বেরিয়ে যেতেই দল নিয়ে ভরাডুবিতে পড়েছেন মমতা (Mamata Banerjee) অভিষেক। ইতিমধ্যেই অনেক নেতা মন্ত্রী নানা দুর্নীতিমূলক অভিযোগ তুলছে। এমতাবস্থায় তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা মধ্যেই কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi)সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখানেই তৃণমূল সুপ্রিমোর জন্য বড় প্রস্তাব দিলেন সনিয়া গান্ধী।

সনিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ মমতার

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল, মঙ্গলবার বিকেলে দিল্লিতে প্রাক্তন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীর ১০ জনপথের বাংলোয় গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন মমতা। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটে ত়ৃণমূলের বিপর্যয়ের পর এই প্রথম সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে একান্তে বৈঠক করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, সেই বৈঠকে দুই নেত্রীর মধ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা এবং তৃণমূলের পরিষদীয় দলে ভাঙনের মতো বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। আর সেই বৈঠকের পরেই মমতার কাছে বড় প্রস্তাব পেশ করলেন সনিয়া।

বড় প্রস্তাব মমতাকে

কংগ্রেসে থাকাকালীন রাজীব গান্ধীর সঙ্গে বেশ ভালো সম্পর্ক ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আর সেই সূত্র ধরেই সনিয়ার সঙ্গে মমতার রসায়নও বেশ ভাল। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল গড়লেও গান্ধী পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভেঙে যায়নি। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তর্ক বিতর্ক হলেও সনিয়া-মমতা সম্পর্কে কোনও বাজে প্রভাব পড়েনি। আর তাই সেই সম্পর্কের খাতিরে এবার সূত্রের খবর, সনিয়া গান্ধী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের জাতীয় সহ-সভাপতি করার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন। যদিও গোপন সূত্রে পাওয়া খবর এ বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি মমতা, বরং এক সপ্তাহ সময় চেয়েছেন।

আরও পড়ুন: ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে বললে …’ মমতাকে নিয়ে বিস্ফোরক শতাব্দী, জানালেন বিদ্রোহী কেন

কংগ্রেসকে শর্ত অভিষেকের

২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে হেরে যাওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের একাধিক সাংসদ ও নেতার অবস্থান নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। ইতিমধ্যেই একাধিক সাংসদ, বিধায়ক দলের বিপক্ষে কথা বলছে। তাই দলের অন্দরে অসন্তোষ এবং সম্ভাব্য বিদ্রোহের আবহে কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্যসভায় পাঠানোর শর্ত দিয়েছেন ভাইপো অভিষেক। তিনি চান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিযুক্ত হন। যদিও কংগ্রেসের তরফে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।