কেন মৃত্যু হল আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের? শোক প্রকাশ করেই জানালেন মমতা

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: না ফেরার দেশে চলে গেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূলের বর্ষিয়ান নেতা আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় (Ashish Banerjee)। রবিবার, সকালেই বাড়ি লাগোয়া একটি দলীয় কার্যালয় থেকে আশীষের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। আর তারপরেই তৃণমূল নেতার মৃত্যু নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। এরই মাঝে সদ্যপ্রয়াত রাজনৈতিক সঙ্গীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। একই সাথে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর মৃত্যুর কারণ নিয়েও বড় ইঙ্গিত দিলেন তিনি।

আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শোকোস্তব্ধ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী

তৃণমূল কংগ্রেসের বলিষ্ঠ নেতার মৃত্যুতে ইতিমধ্যেই শোক প্রকাশ করেছেন ঘাসফুল শিবিরের অনেকে। তাঁর মৃত্যু নিয়েও উঠতে শুরু করেছেন নানান প্রশ্ন। উল্লেখযোগ্য বিষয়, ইতিমধ্যেই তৃণমূল নেতার মৃত্যু নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাথে কথা বলেছেন বীরভূমের দাপুটে নেতা তথা ভাল তৃণমূলের নতুন সৈনিক অনুব্রত মণ্ডল। এবার পুরনো সতীর্থর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রবিবার নিজের এক্স হ্যান্ডেল থেকে একটি পোস্ট করে আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শোক জ্ঞাপন করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ” আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। তিনি তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় নিষ্ঠার সাথে শিক্ষকতা করেছেন, সমাজসেবায় কাটিয়েছেন এবং রামপুরহাট ও বীরভূমের মানুষের সঙ্গে তাঁর নম্র স্বভাব ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য সর্বদা পরিচিত ছিলেন।”

 

এদিন দলের প্রাক্তন সৈনিকের মৃত্যু প্রসঙ্গে মুখ খুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “শেষ দিনগুলোতে তাঁকে অনেক মানসিক চাপ সহ্য করতে হয়েছে। পাঁচবারের বিধায়ক, প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার এবং চেয়ারম্যান হিসেবে আশীষ দা রামপুরহাটের উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন এবং জনগণের জন্য বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিজে হাতে করেছিলেন। কিন্তু এত কাজ করা সত্ত্বেও, তাঁকে বারবার অপবাদ দেওয়া হয়েছে, মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে এমনকি বারবার তাঁকে চাপের মুখে ফেলা হয়েছে।”

অবশ্যই পড়ুন: এবার হরমুজ দিয়ে আসবে একের পর এক LPG ট্যাঙ্কার, হল বড় চুক্তি

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “দীর্ঘদিন জন সেবায় থাকার পরেও তাঁকে বারবার হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। যা আমাদের অবিরাম রাজনৈতিক শত্রুতার মানবিক মূল্য নিয়ে ভাবতে বাধ্য করে। তাঁর পরিবার এবং প্রিয়জনদের প্রতি আমি আন্তরিক প্রার্থনা এবং সমবেদনা জানাই। তাঁর অনুপস্থিতি চিরকাল অনুভূত হবে।” রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এমন পোস্ট দেখে অনেকেই মনে করছেন, তৃণমূল নেতার মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দীর্ঘদিনের মানসিক চাপকে নিদের্শ করলেন মমতা।