“আমাকে বাড়ি থেকে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না, দয়া করুন” ইন্ডি জোটের বৈঠকে কাতর মমতা

Published:

Mamata INDI

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বাংলার নির্বাচনে ধরাশায়ী হওয়ার পর কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সম্প্রতি দলের প্রতীকটাও ফ্রিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বেছে নিতে হয়েছে নতুন নাম এবং প্রতীক। এমতাবস্থায়, দিল্লিতে গিয়ে ইন্ডি জোটের (India Metting) বৈঠকে অংশ নিয়েছেন মমতা। রাজ্যের তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী সেখানে পৌঁছে বিরোধী জোটের কাছে একেবারে কাতর স্বরে আবেদন জানিয়েছেন, তিনি নাকি বাড়ি থেকে বেরোতে পারছেন না। তাঁকে সাহায্যের জন্য যেন এগিয়ে আসেন বাকি জোট শরিকরা।

বাড়ি থেকে বেরোতে পারছেন না মমতা?

বঙ্গে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেস দলটাই এক প্রকার উঠে যাওয়ার মুখে। সাধারণ মানুষের মন থেকেও যাতে দলটা পুরোপুরি মুছে না যায় সেজন্য সবরকম চেষ্টা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরই মাঝে 21 বিরোধী দলের বিশেষ বৈঠকে অংশ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সাহায্যের আবেদন জানাবেন সেটা প্রত্যাশিত ছিলই। সূত্রের যা খবর, গতকাল বিরোধী জোটের বৈঠকে অংশ নিয়ে নাকি প্রথমেই সকলের কাছে মমতা কাতর অনুরোধ জানান, “ভোটে পরাজয়ের পরই আমাকে বাড়ি থেকে বেরতে দেওয়া হচ্ছে না। দয়া করুন। অন্তত কিছু করুন।”

দিল্লির বৈঠকে অংশ নিতে যাওয়ার আগে ফেসবুক লাইভে এসে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে আক্রমণ করেছিলেন মমতা। বলেছিলেন, “আমাদের ইলেকশনটা ফিরিয়ে দিন।”। সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই দিল্লিতে বিরোধী দলের বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমারকে ভ্যানিশ কুমার বলে আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি এবার তাঁকে বিনাশ কুমার বলেও কটাক্ষ করলেন। শুধু তাই নয়, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে সকলকে একজোট হয়ে লড়াইয়ে নামার আহ্বান জানান তৃণমূল সুপ্রিমো।

আরও পড়ুন: একসাথে ১৮টি যুদ্ধ জাহাজ পাচ্ছে ভারতীয় নৌসেনা, বিরাট ঘোষণা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

যে কথা না বললেই নয়, এর আগে বিভিন্ন রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির জয় নিয়ে নানান মন্তব্য করেছিলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বিজেপির সাফল্যকে ভোট চুরি হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন তিনি। যদিও বাস্তবে সেই সময় মুখে একপ্রকার কুলুপ পেতে ছিলেন মমতা। শুধু তাই নয়, ক্ষমতার সিংহাসন ধরে থাকা অবস্থায় বেশ কিছু ক্ষেত্রে কংগ্রেসকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি তৃণমূল নেত্রী। এবার সেই মমতাই সব হারিয়ে কংগ্রেসের দিল্লির নেতৃত্বের কাছে যেতেই তাঁকে অবশ্য গুরুত্বের চোখেই দেখেছে হাত শিবির। মমতাকে পাশে বসেই এদিন বৈঠক করেন সোনিয়া গান্ধীও।

google button