সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অনেক ঘোরাঘুরির পর হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী শ্রীরামপুরে জনসভার অনুমতি পেয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। প্রতীক হারানোর পর এই প্রথম জনসভা মমতার। এদিকে আজ মমতার সভায় যাওয়ার পথেই ডিম হামলার শিকার হয়েছেন কুণাল ঘোষ। শর্তসাপেক্ষে শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে আজ সভা করছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেখানে দাঁড়িয়েই জ্ঞানেশ কুমারের পাশাপাশি বিজেপিকে একেবারে তুলোধোনা করে ছাড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শ্রীরামপুরে বিজেপিকে চরম কটাক্ষ মমতার
শনিবার শ্রীরামপুরের জনসভা থেকে প্রথমেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেন। স্পষ্ট বলেন, “ভ্যানিশ কুমারকে যেমন ধরেছি, তেমন অন্যায়কারীদের ধরব। ভ্যানিশ কুমার ভ্যানিশ হলে সব শেষ হয়ে যাবে। যতদিন না যাবে, আমাদের আন্দোলন এইভাবে চলবে।” তিনি বলেন, “আজকে ভ্যানিশ কুমারকে শুধু টার্গেট করলে হবে না। ভ্যানিশ কুমার তো আছেই। তাঁকে তো সরতে হবেই। সাথে সীমা খান্নাও আছেন। আর পেছনে আছেন নারদ-নারদ। বিজেপির অত্যাচার জীবন্ত যমালয়কেও ছাড়িয়ে গেছে। আজকে যমরাজও মনে হয় মৃত্যুর পর নরকে গেলে এত অত্যাচার করে না। এই ক’মাসে যে অত্যাচার আমরা দেখলাম।”
এদিকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “কে চোর, কে ডাকাত, সে তো লোকে দেখতে পাচ্ছে। এই চার মাসে কত লক্ষ কোটি টাকা লুট হয়েছে? মিষ্টির দোকানও বন্ধ। মিষ্টির দোকানেও গিয়ে বলছে টাকা চাই। শাখা-চুড়ির দোকানে গিয়ে বলছে টাকা চাই। কয়লার টাকা চাই… বাংলায় আপনাদের এই হানিমুন পিরিয়ডে, এটা তো হানিমুন পিরিয়ড নয়, গুন্ডা গদ্দারির পিরিয়ড। অত্যাচারের পিরিয়ড। আর মানি মুন, টাকা লুটের পিরিয়ড। আপনারা কোনও পলিটিক্যাল পার্টিকে মিটিং করতে দিচ্ছেন না। আমাকে বাড়ি থেকে বেরোতে দেয় না… আপনারা বাংলা দখল করেছেন। আমরা দিল্লি দখল করব।” পাশাপাশি বাংলার শিল্প নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তিন মাসে কোনও ইন্ডাস্ট্রি তৈরি হয় না, এগুলো সব আমার করা।”
আরও পড়ুন: ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রুটে বাতিল একাধিক ট্রেন, বিজ্ঞপ্তি জারি পূর্ব রেলের
এমনকি বাংলার অত্যাচার প্রসঙ্গে এদিন মমতা বলেন, “আফ্রিকাতেও এই অত্যাচার হয়নি। কোথাও না, কোথাও নয়। বাংলায় যা হচ্ছে, এমনকি যোগীরাজ্যেও এত অত্যাচার হয়নি। অনেক অত্যাচার হচ্ছে। কিন্তু এরকম হয়নি। বিহারেও হচ্ছে। কিন্তু এতটা হয়নি…. লুমপেনদের হাতে চলে গেছে বাংলা, মা-বোনেদের ইজ্জত লুটেপুটে খাচ্ছে। রাস্তায় বেরোতে পারছে না মেয়েরা। ভয় পাচ্ছে। সন্ধ্যার পর রাস্তাগুলো খালি হয়ে গেছে। দোকানদাররা ভয়ে দোকান খুলতে পারছে না। বাংলাটা চলে গেছে কতগুলো ক্রিমিনালদের হাতে। এদের কোনও জাতপাত নেই। এরা হচ্ছে ক্রিমিনাল। টাকা দিয়ে অত্যাচার করতে পাঠাচ্ছে। পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।”










