“তৃণমূল মহিলা বিরোধী, ৪-মের পর খুলবে সব ফাইল” পানিহাটিতে হুঙ্কার মোদীর

Published:

Narendra Modi

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আগামী ২৯ এপ্রিল, রাজ্য জুড়ে হতে চলেছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। তাই শেষ মুহূর্তে বিজেপির প্রচার কাজে মরিয়া হয়ে উঠেছে নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ। আর তাই এবার আরজি করের ইস্যু নিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে (Panihati) নির্বাচনী জনসভা থেকে কড়া ভাষাতেই তৃণমূলকে আক্রমণ শানালেন মোদী (Narendra Modi)। হুঁশিয়ারি দিলেন নারী নির্যাতনের সব ফাইল খোলার।

পানিহাটিতে মোদী

রিপোর্ট মোতাবেক, আজ শুক্রবার, সোদপুরের পানিহাটিতে বিজেপি প্রার্থী তথা অভয়ার মা রত্না দেবনাথের সমর্থনে অমরাবতী মাঠে জনসভা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ একাধিক নেতা ও প্রার্থী। মঞ্চে উঠেই স্থানীয় ইস্যুতে জোর দিয়ে তৃণমূলকে বিঁধলেন মোদী। দমদম এলাকার দীর্ঘদিনের জল জমার ভোগান্তি ও জলজটের সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, “এখানে ১৫০ বছরের পুরনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা এখনও চলছে, ফলে সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে।” প্রধানমন্ত্রীর দাবি, তৃণমূল সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে পুরনো পাইপলাইন ও নিকাশি ব্যবস্থাকে বজায় রাখছে, যাতে প্রতি বর্ষায় মেরামতির নামে নতুন করে টেন্ডার ডাকা যায়। সোচ্চার হয়েছেন মহিলা নিরাপত্তা নিয়ে।

শাসকদলকে মহিলা বিরোধী বলে কটাক্ষ মোদীর

পানিহাটি-র সভামঞ্চ থেকে অভয়ার মাকে পাশে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আরজি কর ইস্যুতে তৃণমূলকে বিঁধে বলেন, “এই মা তাঁর মেয়েকে ডাক্তার বানিয়েছিলেন। কিন্তু তৃণমূলের জঙ্গলরাজ সেই মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়েছে। আর সেই কারণে তাই নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবেই বিজেপি রত্না দেবনাথকে প্রার্থী করেছি আমরা।” এখানেই শেষ নয়, শাসকদলকে ফের মহিলা বিরোধী বলে কটাক্ষ করেন মোদী। তিনি বলেন, “তৃণমূল মহিলাদের উপর অনেক অত্যাচার করেছে। এবারের নির্বাচনে বাংলার নারীশক্তি নতুন কাহিনি লিখবে। ৪ মের পর অত্যাচারের সমস্ত ফাইল খুলবে। এটা মোদির গ্যারান্টি।”

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের ছাতা মাথায় তৃণমূলের গুণগান! ভিডিও দেখিতে অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে শান মালব্যর

জনসভায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর দাবি, “গতকালের ভোটদানের হার প্রমাণ করে দিয়েছে যে বাংলায় বিজেপির ক্ষমতায় আসা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। এতদিন ধরে তৃণমূলের জমানায় রাজ্যে গণতন্ত্রের যে টুঁটি চিপে ধরা হয়েছিল, এবার সেই অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান হতে চলেছে।” সব মিলিয়ে, পানিহাটির এই সভা শুধুই রাজনৈতিক প্রচার নয়—এখানে উঠে এল নারী নিরাপত্তা, বিচারের প্রশ্ন। এখন দেখার এই বার্তা দ্বিতীয় দফার ভোটে কতটা প্রভাব ফেলে।