৩০ বছর ধরে বিজেপির দখলে, প্রথমবার ভোটে দাঁড়িয়েই বাঁকিপুর জিতলেন প্রশান্ত কিশোর

Published:

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বিজেপির ৩০ বছরের দম্ভ শেষ! প্রথমবার ভোটে দাঁড়িয়েই বিহারের উপনির্বাচনে জন সুরাজ পার্টির প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishore) বিপুল ভোটে জয়লাভ করলেন। বাঁকিপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপিকে ১৬ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করেছেন তিনি। তাঁর এই জয়লাভ যে বিজেপি শাসিত রাজ্যেই গেরুয়া শিবিরের জন্য বিরাট ধাক্কা হতে চলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনকি জয়লাভ করেই বিহারের মুখ্যমন্ত্রীকে একহাত নিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর।

বাঁকিপুর কেন্দ্রে বিরাট জয় প্রশান্ত কিশোরের

প্রথম থেকেই বিজেপির প্রার্থী নিরাজ কুমারের থেকে এগিয়েছিলেন তিনি। এখনও পর্যন্ত মোট ২৭ রাউন্ড গণনা সম্পন্ন হয়েছে। বাকি রয়েছে চার রাউন্ড। তবে ইতিমধ্যেই প্রশান্ত কিশোরকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। ইলেকশন কমিশন অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, জন সুরাজ পার্টির প্রার্থী প্রশান্ত কিশোর ভোট পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৭৮০ টি। অন্যদিকে নিরাজ কুমার ভোট পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৮৯৩ টি। ২৭ রাউন্ড শেষে প্রশান্ত কিশোর এগিয়ে ছিলেন ১৬ ৮৮৭ ভোটে। অন্যদিকে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন রাষ্ট্রীয় জনতা দলের প্রার্থী রেখা কুমারী। ২৭ রাউন্ড শেষে তিনি ভোট পেয়েছেন ১২ হাজার ৪৬১।

এদিকে আবার মধ্যপ্রদেশের দতিয়া বিধানসভা কেন্দ্রেও আজ উপনির্বাচন হচ্ছে। সেখানে ১৪ রাউন্ড গণনা শেষে কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে। এই কেন্দ্রে কংগ্রেসের প্রার্থী ঘনশ্যাম সিং বর্তমানে ৭৫৪৪ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। পাশাপাশি বিজেপির আশুতোষ তিওয়ারি পেয়েছেন মাত্র ৬৪১৪টি ভোট। এছাড়াও গুজরাটের মঞ্জলপুর বিধানসভা কেন্দ্রেও আজ উপনির্বাচন। সেখানে বিজেপির প্রার্থী সতীশ প্যাটেল কংগ্রেসের প্রতিদ্বন্দ্বী ভিখাভাই রাবারিকে ৩০ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করেছেন। ফলে গুজরাটে বিজেপির শক্তি আরও বৃদ্ধি পেল।

আরও পড়ুন: এবার ভারতে ব্যান হচ্ছে ওল্ড মঙ্ক, রয়্যাল চ্যালেঞ্জের মতো মদ!

এদিকে জয়লাভ ঘোষণার পরেই বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীকে খোঁচা মেরে প্রশান্ত কিশোর জানিয়েছেন, “বাঁকিপুর উপনির্বাচনে তাঁর জয়লাভ বিজেপির প্রতি একটি বার্তা। বিহারের জনগণ এমন একজন ভালো মুখ্যমন্ত্রী চান, যিনি শিক্ষার উন্নতি করতে পারবেন, যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন এবং নিশ্চিত করতে পারবেন যে বিহারের সন্তানদের কাজের জন্য যেন বাইরে না যেতে হয়। বিহারের ভালো নেতৃত্ব এবং প্রকৃত উন্নয়ন প্রয়োজন। লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিজেপির উচিত যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এটাই আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। আমরা শুধু চুক্তি দেওয়ার জন্য বিধায়ক হতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য বিহারের উন্নয়ন।”