সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সই জালিয়াতি কাণ্ডে এবার পদ হারাতে পারেন তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক (TMC MLA Sign Case)। আগামী ২২ জুন থেকে বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শুরু। এবার তৃণমূলের ঝুলিতে মাত্র ৮০টি বিধায়ক। তবে এখনও পর্যন্ত বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা পায়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। এরই মধ্যে আবার সই জালিয়াতি কাণ্ডে জড়িয়েছেন একাধিক বিধায়ক। এমনকি তা নিয়ে সিআইডি হানাও দিয়েছিল তাঁদের বাড়িতে।
সই জালিয়াতি কাণ্ডে নয়া মোড়
আসলে তৃণমূল কংগ্রেস বিধানসভায় তাদের বিরোধী শিবিরের পর্যাপ্ত ঘরটুকু পাচ্ছে না বলেই দাবি দলের। এমনকি বিরোধী দলগুলি অর্থাৎ সিপিএম, কংগ্রেস, আইএসএফ এমনকি হুমায়ুন কবীরের দলও বিধানসভায় বসার ঘর পাবে, কিন্তু তৃণমূল তা পাচ্ছে না। বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে মান্যতাই দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি। এ নিয়ে সম্প্রতি বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর কাছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখিত চিঠি পাঠান। তবে সেই চিঠির গুরুত্ব বিবেচনা করে তা খারিজ করে দেন স্পিকার।
তাঁর দাবি, একজন সাংসদের চিঠির কোনও গুরুত্ব নেই। এমনকি তিনি জানান যে, পরিষদীয় দলের অন্তত ৩০ জন বিধায়কের সইযুক্ত চিঠি পাঠালেই তবে তা মান্যতা দেওয়া হবে। তৃণমূলের তরফ থেকে তা পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানেই ঘটে আসল খেলা। ওই চিঠিতে অনেক বিধায়ক নাকি সই জালিয়াতি করেছিলেন। এমনই দাবি বিধানসভার স্পিকারের। সেই সূত্রে বিগত দু’দিন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রনাথ সিনহা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ বেশ কয়েকজনের বাড়িতে হানা দিয়েছিল সিআইডি আধিকারিকরা। তবে তৃণমূল দাবি মানতে নারাজ।
আরও পড়ুন: ঐতিহ্যের গায়ে আধুনিকতার ছোঁয়া! ইলেকট্রিক রূপে রাজপথে ফিরছে কলকাতার হলুদ ট্যাক্সি
তাদের একটাই অভিযোগ, নতুন সরকার গঠনের পরেও বিরোধী দল হিসেবে তাদেরকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। এমনকি বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিধানসভায় বসার পর্যাপ্ত ঘরটুকুও দেওয়া হয়নি। যদিও এ নিয়ে এবার সরাসরি তৃণমূলকে নিশানা করেছেন বিজেপির বিধায়ক তাপস রায়। তিনি বলেছেন, গত দেড় দশকে বিধানসভায় এরকম নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেনি। এমনকি শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশের কোনও বিধানসভাতেই এরকম ঘটনা ঘটেনি। যথেষ্ট তদন্তের দরকার। সরকারি নথিতে জাল সই ব্যবহার করা হয়েছে কিনা তা অবশ্যই দেখা প্রয়োজন।










