আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: অশোকনগরের বিধায়ক সুময় হীরা (Sumay Hira) পেশায় চিকিৎসক। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে অশোকনগর কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেছিলেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সুময় হীরা পেয়েছেন ৯৬,৮০৭টি ভোট এবং তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নারায়ণ গোস্বামীর থেকে ৯,৪০৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। ডাক্তার হিসেবে দীর্ঘদিন অশোকনগরে তাঁর পরিচিতি রয়েছে। এবার সেই বিধায়ক-চিকিৎসককেই ঘিরে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। ভিডিওটি ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা।
কী ঘটেছিল ডাক্তারের চেম্বার?
এই দিন সুময় হীরার চেম্বারে হাজির হন মণ্ডল সভাপতি রিঙ্কি সুর। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন কর্মসূচির জন্য বিধায়কের কাছ থেকে প্রদীপ নিতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয় বলে ভিডিওতে দেখা যায়। “আমি আগে ডাক্তার, পরে বিধায়ক” প্রদীপ চাইতেই বিজেপি কর্মীকে তুলোধোনা সুময় হীরার। সুময় হীরাকে বলতে শোনা যায়, তাঁর চেম্বারে শুধুমাত্র চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজই হবে, সেখানে রাজনৈতিক আলোচনা করা যাবে না। প্রদীপ দিতেও তিনি অস্বীকার করেন। কথোপকথনের এক পর্যায়ে বিধায়ক জানান, তিনি বিধায়ক এবং প্রদীপগুলি বিধায়কের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাই প্রদীপ নিয়ে কী করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন বলেও তাঁকে বলতে শোনা যায়। ঘটনাটির সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে একজন গোটা বিষয়টির ভিডিও করে নেন এবং পরবর্তীতে সেটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
কী বললেন রিঙ্কি সুর?
ঘটনা নিয়ে রিঙ্কি সুরের বক্তব্য, দলের তরফে তাঁদের কাছে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের কর্মসূচির জন্য বিধায়কের কাছ থেকে প্রদীপ নিয়ে আসার নির্দেশ ছিল। সেই কারণেই তিনি সুময় হীরার চেম্বারে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, প্রদীপ চাওয়ার পর কোনও কারণে বিধায়ক বিরক্ত বা রেগে যান এবং তাঁকে বকাবকি করেন। পাশাপাশি প্রদীপ দিতেও অস্বীকার করেন।
আরও পড়ুন: আবাসনে উপদ্রব কুকুরের, প্রতিবাদে প্রশাসনের অফিসে কুকুর ছেড়ে প্রতিবাদ! ভাইরাল ভিডিও
তবে পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে রিঙ্কি সুরকে ক্ষুব্ধ হতে দেখা যায়নি। বরং বিষয়টিকে তিনি অনেকটা পারিবারিক ঝামেলার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর কথায়, একই বাড়িতে থাকলে বাবা-মেয়ের মধ্যেও কখনও ঝামেলা হতে পারে, কিন্তু এইসব বিষয়গুলো তো ভিডিও করে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। ভাইরাল ভিডিওটি কে করেছেন, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তাঁর সন্দেহ, দলের বিরোধী কেউ কিংবা তাঁর কোনও কমরেড বন্ধু বা চোর তৃণমূল নিজেদের ব্যবসা বাড়াতে এই ভিডিওটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে থাকতে পারেন। ইতিমধ্যেই সেই ভিডিওকে ঘিরে অশোকনগরের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।










