শ্রীরামপুরে মমতার সভার অনুমতি দিল হাইকোর্ট, মানতে হবে এই কঠিন শর্ত

Published:

Mamata Banerjee

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অবশেষে স্বস্তি পেল কালীঘাট তৃণমূল। হুগলির শ্রীরামপুরে জনসভার অনুমতি পেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এর আগে অনুমতি দিলেও জমি জটিলতার কারণে তা আবার প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে মমতাপন্থী তৃণমূল জনসভা করতে পারবে বলেই জানিয়েছে আদালত। যদিও সেক্ষেত্রে কিছু শর্ত মানতে হবে বলেই জানিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।

শ্রীরামপুরে জনসভার অনুমতি পেলেন মমতা

রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হতেই তৃণমূল কর্মীদের উপর অত্যাচারের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েই শ্রীরামপুরে এই জনসভার ডাক দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষ করে শ্রীরামপুরে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং বিজেপির অত্যাচারের বিরুদ্ধেই ছিল এই জনসভা। তবে পালাবদলের পর কলকাতার বাইরে তেমন বেরোতে দেখা যায়নি দলনেত্রীকে। এমনকি শহীদ দিবস ও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে সভা করতে চেয়েও হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল তাদের। অনেক শর্তসাপেক্ষে দেওয়া হয় অনুমতি। তবে শ্রীরামপুরের এই সভার অনুমতি না মেলায় উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন চুঁচুড়ার প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার।

প্রথমে শর্তসাপেক্ষে হাইকোর্ট অনুমতি দিলেও পরে জমি জটিলতার কারণে সেই অনুমতি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এমনকি কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা নাকি নিজেদের আড়াল করে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। তবে এদিন সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিয়েছেন কালীঘাট তৃণমূলকে। এমনকি এদিন আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেলের বাকবিতণ্ডাও হয় বলে খবর। তৃণমূল সাংসদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে সভা আটকানোর চক্রান্ত চালাচ্ছে।

আরও পড়ুন: “২২ লাখ টাকা করে চাকরি বেচতেন অভিষেকের PA সুমিত”, FIR দায়ের করল তৃণমূলই!

তবে রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে নিরাপত্তা ও পদপিষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় জমায়েতের সংখ্যা ৭০০-র মধ্যে সীমিত রাখার আর্জি জানানো হলেও দুই পক্ষের সওয়াল শোনার পর তা ১০০০-এ নির্ধারণ করা হয়েছে। এমনকি সভামঞ্চের আয়তন ছোট রাখতে হবে বলে জানিয়েছে আদালত। তার পাশাপাশি আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেল চারটের মধ্যে ১০ জন দলীয় স্বেচ্ছাসেবকের নাম এবং ফোন নম্বর শ্রীরামপুর থানায় জমা দিতে হবে এবং সভায় কোনও রকম উস্কানিমূলক বা অপ্রীতিকর মন্তব্য করা যাবে না। কঠোর শব্দবিধি মেনে চলার পাশাপাশি সভা শেষ হলে ডেকরেটর এবং বিদ্যুতের সমস্ত সরঞ্জাম দ্রুত খুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।

google button