প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভয়ংকর কাণ্ড বাঁকুড়ায় (Bankura), অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেল ৫০ জন বাস (Government Bus) যাত্রী, নিজেদের জীবনের দুঃসাহসিক ঝুঁকি নিয়ে তাঁদের প্রাণ বাঁচালো দুই ব্যক্তি। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে এলাকায়। ওই দুই ব্যক্তির অসামান্য দক্ষতা এবং উপস্থিত বুদ্ধির জেরে বাসে থাকা প্রায় ৫০ জন যাত্রী সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় (50 Passengers Saved) উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় কোনো গুরুতর আহত হওয়ার খবর আপাতত পাওয়া যায়নি।
ঠিক কী ঘটেছিল?
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়া জেলার কোতোলপুর থানার অন্তর্গত চাতরামোড় এলাকায়। সেখানে গতকাল, বুধবার বিকেলে ৫০ জন যাত্রী নিয়ে নিজস্ব গতিতে একটি সরকারি বাস আরামবাগ থেকে বাঁকুড়ার জয়রামবাটির দিকে যাচ্ছিল, সেই সময় ওই বাসের স্টিয়ারিংয়ের গুলি খুলে ঝুলছিল। কিন্তু এই সমস্যা টের না পেয়ে নিজের মত গাড়ি চালাচ্ছিলেন চালক। এদিকে উল্টো দিক থেকে আসছিল অপর একটি প্রাইভেট গাড়ি। সেই গাড়িতে থাকা দুজন পুরো বিষয়টি লক্ষ্য করেন। সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি দাঁড় করিয়ে বাস থামান তাঁরা। এবং বাসের মধ্যে থাকা চালকসহ যাত্রীদের গাড়ি থেকে নামান হয় তড়িঘড়ি।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রাণ বাঁচল ৫০ জন যাত্রীর
প্রথমদিকে ওই প্রাইভেট গাড়ির চালক বিষয়টি দেখেন, তারপর মালিক শ্যামানন্দ মুখোপাধ্যায়কে গোটা বিষয়টি বলেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি চালককে বাসটাকে ধরার জন্য জোরে গাড়ি চালানোর নির্দেশ দেন। নির্দেশ পালন করলেও কিছুতেই ওই বাসটিকে ধরা সম্ভব হচ্ছিল না। শেষে কোনরকমে গতি বাড়িয়ে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে পড়ে গাড়িটি, আর তাই দেখে বাধ্য হয়ে গতি কমাতে হয় ওই সরকারি বাসটিকে। শেষে বাসের চালককে সমস্ত বিষয়টা জানানো হলে চালক ওই গাড়ির মালিককে ধন্যবাদ জানায়। নিজেদের জীবনের দুঃসাহসিক ঝুঁকি নিয়ে এত বড় পদক্ষেপ নেওয়ায় সকলেই বেশ প্রশংসা করেছেন তাঁদের।
আরও পড়ুন: মাথার দাম ছিল ১ কোটি, অবশেষে কলকাতা পুলিশের STF-র জালে শীর্ষ মাও নেতা আকাশ
প্রসঙ্গত, স্টিয়ারিংয়ের গুলি খুলে যাওয়া অবস্থায় যদি বাসটি চলতে থাকে তাহলে স্টিয়ারিংয়ের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। প্রাণহানির সম্ভাবনাও থাকত। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ভগবানের দূত হয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছেন দুই ব্যক্তি, আর সেই কারণে সকলেই আপাতত বিপদমুক্ত।










