“দাদাকে ফেরাতে পারব না, বৌদিকে…” প্রয়াত আশিস ব্যানার্জীর বাড়ি গিয়ে সান্তনা মুখ্যমন্ত্রীর

Published:

Suvendu Adhikari

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দিন কয়েক আগেই নিজের দলীয় কার্যালয়ে আত্মঘাতী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের পাঁচবারের বিধায়ক তথা বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় (Asish Banerjee)। এমনকি লিখে গিয়েছিলেন একটি সুইসাইড নোট, যেখানে তিনি তাঁর মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করেননি। এ নিয়ে রাজনীতির পারদ যে অনেকটাই চড়েছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রাক্তন বিধায়কের মৃত্যুতে বিজেপির দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলছিল বিরোধীরা। তবে এবার রামপুরহাটে আশিসবাবুর বাড়িতে গিয়েই পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়ে এলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে শুভেন্দু অধিকারী

বীরভূম সফরে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সকালেই তারাপীঠ মন্দিরে পুজো দিয়ে জেলার উন্নয়নের জন্য একাধিক ঘোষণা করেন তিনি। তার পরপরই রামপুরহাটের পাঁচবারের প্রাক্তন বিধায়ক প্রয়াত আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে হাজির হন তিনি। সেখানেই আশিসবাবুর স্ত্রী এবং সন্তানকে সান্ত্বনা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, “ওঁনারা আমাকে বলেছেন, প্রশাসন বা বিজেপির কেউ আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে উত্যক্ত করেনি। ওঁরা নিজেরাই জানে না কারণ। তবে রাজ্য সরকারের উপর পরিবারের কনফিডেন্স আছে।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, “যিনি আশিসবাবুকে হারিয়েছিলেন, সেই বিজেপির প্রার্থী ধ্রুব সাহা সবার আগে এসে ওনাকেই প্রণাম করে যান। ওখানকার বিজেপির কর্মীরা সভ্য, ভদ্র। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁরা সবাই খুব সম্মান করতেন। ওনার দাদা, স্ত্রী এবং ছেলে সবাই বলেছেন পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই। তবে দাদাকে তো ফিরিয়ে দিতে পারব না। বৌদিকে ফোন নম্বর দিয়ে এসেছি। বলেছি যে কোনও প্রয়োজন হলেই জানাতে।” এমনকি দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে এসেছেন তিনি বীরভূমের মাটিতে দাঁড়িয়ে।

আরও পড়ুন: “আপনারা ২০০ বছর নিয়ে এখন তাড়াহুড়ো কেন?” লন্ডনে গিয়ে বড় বার্তা প্রধান বিচারপতির

জানিয়ে রাখি, গত ১৬ আগস্ট রামপুরহাটের বাড়ি সংলগ্ন একটি দলীয় কার্যালয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০০১ থেকে ২০২৬, তৃণমূলের আমলে রামপুরহাটের পাঁচবারের বিধায়ক ছিলেন তিনি। এমনকি রাজ্যের বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার পদেও একসময় দায়িত্ব সামলেছেন আশিসবাবু। মুখ্যমন্ত্রী সেই সময়ই জানিয়েছিলেন, “উনি একজন সজ্জন ব্যক্তি। ওনার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।” প্রসঙ্গত, রামপুরহাট কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান শিক্ষক ছিলেন তিনি। কিন্তু কী কারণে তিনি আত্মঘাতী হয়েছিলেন তা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।