মেটাতেই হবে ২২,০০০ কোটি? সুভাষ চন্দ্রের ঋণ কাণ্ডে এবার ময়দানে LIC, HDFC ও Union Bank

Published:

Subhash Chandra’s Lone settlement

অনন্যা সরকার, নয়াদিল্লি: সম্প্রতি ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনালের (NCLT) ব্যক্তিগত দেউলিয়াত্ব সমাধানের প্রক্রিয়ায় এসেল গ্রুপের (Essel Group) প্রতিষ্ঠাতা সুভাষ চন্দ্রকে বড়সড় স্বস্তি দিয়েছে। তাঁকে ২২ হাজার কোটি টাকার বকেয়া ঋণের বিপরীতে মাত্র ৬.৫ কোটি টাকা পরিশোধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Loan Settlement)। অর্থাৎ, ঋণদাতাদের দাবিকৃত অর্থের ৯৯.৯৭ শতাংশই মকুব করা হয়েছে। এনসিএলটি-এর এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে LIC, এইচডিএফসি ব্যাংক (HDFC Bank) ও ইউনিয়ন ব্যাংক (Union Bank)। ব্যাংকের তরফে বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে যে, তারা এই বিষয়ে ন্যাশনাল কোম্পানি ল অ্যাপেলেট ট্রাইব্যুনালে (NCLAT) আপিল করার কথা ভাবনাচিন্তা করছে। 

এইচডিএফসি ব্যাংক NCLT-এর সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ

এনসিএলটি মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) শিল্পপতি সুভাষ চন্দ্রের বকেয়া ঋণের জন্য একটি রিপেমেন্ট প্ল্যান অনুমোদন করেছে, যার অধীনে প্রায় ২২,০০৬.৫৭ কোটি টাকার স্বীকৃত দাবির বিপরীতে মাত্র ৬.৫ কোটি টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছিল এলআইসি হাউসিং ফাইনান্স, এইচডিএফসি, অ্যাক্সিস ও কানাড়া ব্যাঙ্কের মতো একাধিক ঋণদাতা। 

তবে, নির্দিষ্ট কিছু বেসরকারি ঋণদাতার ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে এই প্ল্যানটিই স্বীকৃত হয়। এর ফলে ঋণদাতাদের পাওনা প্রায় ৯৯.৯৭ শতাংশ কমে গেছে। তাই এখন ঋণদাতাদের মধ্যে অন্যতম এইচডিএফসি এবং ইউনিয়ন ব্যাংক একধাপ এগিয়ে এই বিষয়টি নিয়ে ন্যাশনাল কোম্পানি ল অ্যাপেলেট ট্রাইব্যুনালে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়ে। 

আরও পড়ুন: মিলছে না সার্ভিস রেকর্ড! ডিএ পাওয়ার আশা ছাড়তে হবে গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের?

এইচডিএফসি ব্যাংকের তরফে জানানো হয়েছে যে, এই রিপেমেন্ট প্ল্যান অনুযায়ী ব্যাংকের দাবি করা প্রায় ৬৮০ কোটি টাকার ৯৬.৮ শতাংশ মকুব করে মাত্র ৩.২ শতাংশ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। এইচডিএফসি লিমিটেড এবং এইচডিএফসি ব্যাংক মার্জ হওয়ার পর ব্যাংকটি এই ঋণটি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে।

এনসিএলটি প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সুভাষ চন্দ্রকে পাওনাদারদের স্বীকৃত প্রায় ২২,০০৬.৫৭ কোটি টাকার দাবির মধ্যে মাত্র ৬.২৫ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে এবং প্রসেসিংয়ের খরচের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। শুনানির সময়, এলআইসি হাউজিং ফাইন্যান্স সহ বেশ কিছু পাওনাদার এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেন। এনসিএলটি-র আদেশে নথিভুক্ত এলআইসি হাউজিং ফাইন্যান্স যুক্তি দেয় যে, তাদের দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ ছিল ১,৩২২.৩৯ কোটি টাকা, যেখানে মাত্র ৩৮.০৯ লক্ষ টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে, যা তাদের মোট দাবির মাত্র ০.০২৮ শতাংশ। 

আরও পড়ুন: “উচ্চ মাধ্যমিক পাস, BBA-MBA ডিগ্রি ভুয়ো” অভিষেকের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন

সেসময় কোম্পানিটি দাবি করে যে, এত কম আদায়ের হারবিশিষ্ট এই পরিশোধ পরিকল্পনা অনুমোদন করা উচিত নয়। তবে, এনসিএলটি-র বিচার বিভাগীয় সদস্য নীলেশ শর্মা, তৃতীয় সদস্য হিসেবে, ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাংকরাপসি কোড (IBC)-এর ১১৪ নং ধারার অধীনে পরিকল্পনাটি অনুমোদন করেন। তিনি সেই সমস্ত পাওনাদারদের আপত্তি খারিজ করে দেন, যারা বলেছিলেন আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণ অত্যন্ত কম তাই পরিকল্পনাটি বাতিল করা হোক। তাই এবার এনসিএলটি-এর এই সিদ্ধান্তকে  চ্যালেঞ্জ করে লড়াইয়ের মাঠে নামছে এইচডিএফসি, LIC ও ইউনিয়ন ব্যাংক। তারা শীঘ্রই ন্যাশনাল কোম্পানি ল অ্যাপেলেট ট্রাইব্যুনালে এবিষয়ে আপিল করতে চলেছে।