সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ গ্রান্ট ইন এইড (Grant-in-aid) কর্মীরা কবে বকেয়া ডিএ (Dearness allowance) পাবেন? এখন এই প্রশ্ন সকলের। সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে, রায়দানও হচ্ছে, কিন্তু সুরাহা কিছুই হচ্ছে না। ইতিমধ্যে কেএমসি এলাকায় বসবাসকারী পেনশনভোগী থেকে শুরু করে আরও অন্যান্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে কিছু অংশ বকেয়া ডিএ পেয়েছেন। কিন্তু গ্রান্ট ইন কর্মীরা কোনও বকেয়া পাননি। ফলে বেজায় ক্ষুব্ধ সকলে। এই বিষয়ে শিক্ষকদের একটি সংগঠন হাইকোর্টের অবধি দ্বারস্থ হয়েছিল সম্প্রতি। তবে নবান্ন সূত্রে এখন অন্য কথাই জানা যাচ্ছে। একটি বিষয় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কী বিষয়? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
কবে বকেয়া ডিএ পাবেন গ্রান্ট ইন এইড কর্মীরা?
সূত্রের খবর, গ্রান্ট ইন এইড কর্মীদের ডিএ পাওয়ার ক্ষেত্রে অসুবিধা তৈরি করছে তাঁদেরই ম্যানুয়াল সার্ভিস রেকর্ড। হিসেব অনেকটাই মিলছে না বলে জানা যাচ্ছে। অর্থ দফতর সবটা পুঙ্খানুপুঙ্খুভাবে প্রতিটি রেকর্ড চেক করছে। সেই চেকিং-এর সময়েই হিসেব না মেলায় টাকা ছাড়ার প্রক্রিয়ায় দেরি হচ্ছে। নানা সমস্যার সৃষ্টি হওয়ায় সরকার নাকি চাইলেও ডিএ রিলিজ করতে পারছে না। তবে চিন্তা নেই, শীঘ্রই সকলে টাকা পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ দার্জিলিং দর্শন করা যাবে না শিলিগুড়ির গাড়ি নিয়ে! ১ সেপ্টেম্বর থেকে লাগু নয়া নিয়ম
সকলের নানা সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজতে রাজ্য সরকার গ্রান্ট-ইন-এড কর্মীদের জন্য গত সপ্তাহেই একটি পোর্টাল চালু করেছে। এই পোর্টালে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে কর্মীর সার্ভিস বুক ও তিনি কত টাকা ডিএ বাবদ পাবেন, সেই হিসেব আপলোড করতে হবে। এরপর সেই হিসেব খতিয়ে দেখবে রাজ্য অর্থ দফতর। এই হিসেব খতিয়ে দেখার পর যদি সব নির্ভুল থাকে তবেই উক্ত কর্মীর প্রাপ্য ডিএ–র টাকা মিটিয়ে দেওয়া হবে। তবে এই প্রক্রিয়া কত দিনে শেষ হবে, তা নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। যদিও নবান্নের দাবি, এই নতুন পোর্টালটির কারণে কাজে আগের তুলনায় অনেকটাই এসেছে।
প্রশ্নের মুখে কয়েক লক্ষ মানুষের ভাগ্য
বর্তমানে এই বকেয়া ডিএ পাওয়ার আশায় চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করছেন কয়েক লক্ষ মানুষ। হিসেব ধরে বললে, সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকার ৫ মার্চ যে হলফনামা পেশ করেছিল, তাতে জানানো হয়েছিল অধ্যাপক, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর সংখ্যা ৩ লক্ষ ৮৮ হাজার ৮৪ জন। পেনশনার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর সঠিক সংখ্যাটা এখনও জানা যায়নি। পুরসভা,পঞ্চায়েত–সহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মীর সংখ্যা ৫৫ হাজার ৭২৮। যাইহোক, এখন দেখার সকলের ভাগ্যের তালা কবে খোলে।










