মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকের মার্কশিটে থাকবে না ‘Fail’ শব্দ, বড় ঘোষণার রাজ্য সরকারের

Published:

Marksheet

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পড়ুয়াদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের। দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীদের মার্কশিটে (Marksheet) এবার থেকে আর ‘Fail’ শব্দটি ছাপা থাকবে না। এর পরিবর্তে লেখা থাকবে ‘Eligible For Skill’ অর্থাৎ দক্ষতার জন্য যোগ্য। বৃহস্পতিবার রাতে শিক্ষামন্ত্রী একটি বৈঠক করে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করেছেন। এমনকি প্রত্যেকটি রাজ্যের স্কুল বোর্ডকে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।

দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের

শিক্ষামন্ত্রীর যুক্তি, পরীক্ষার সময় কোনও শিক্ষার্থীর প্রত্যাশিত নম্বর না পাওয়াকে শুধুমাত্র তার প্রতিভার প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। শিশুদের মনোবল বজায় রাখার প্রয়োজন। সেই কারণেই সার্টিফিকেট থেকে ‘Fail’ শব্দটি উঠিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিহার সরকার। এর পাশাপাশি ম্যাট্রিক সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একটি বিশেষ ক্লাসের ঘোষণা করেছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারি। এ বিষয়ে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ছাত্র-ছাত্রীদের অতিরিক্ত প্রস্তুতি নিতে এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে এক মাস ধরে এই ক্লাসগুলি চলবে।

এর পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী আগেই জানিয়েছিলেন, সরকারি স্কুলগুলি সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯:৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪টে পর্যন্ত এবং শনিবার সকাল ৯:৩০ থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এমনকি রাজ্য সরকারের তরফ থেকে পাঠ্যপুস্তক ভিত্তিক শিক্ষার বাইরে বিভিন্ন কার্যকলাপের সাথে ছাত্র-ছাত্রীদের আরও পরিচয় করে দেওয়ার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সেই সূত্রে সরকারি স্কুলগুলোতে শনিবার ‘নো ব্যাগ ডে’-র প্রবর্তন করা হয়েছে। অর্থাৎ এদিন ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে ব্যাগ আনার কোনও প্রয়োজন পড়বে না।

আরও পড়ুন: অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস দখলের অভিযোগ, নোটিশ দিল মালিকপক্ষ

জানা গিয়েছে, এই দিনটিতে শিক্ষার্থীদের এমন সব কার্যকলাপে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে, যেগুলিতে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের সময় কম মনোযোগ দেওয়া হয়। এমনকি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই দিনটিতে ছাত্র-ছাত্রীরা থিয়েটার, সংগীত বা অন্যান্য সৃজনশীল কাজের মতো ক্ষেত্রগুলি এর সংস্পর্শে আসবে। এছাড়া নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্বও দেওয়া হচ্ছে। স্কুলের প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁরা মাঠপর্যায়ের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে মূল্যায়ন, ডায়েরি রক্ষণাবেক্ষণ, বাড়ির কাজ পরীক্ষা, ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা বা অন্যান্য কাজে আরও ১ ঘণ্টা সময় ব্যয় করবেন। সামগ্রিকভাবে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্যই এই ঘোষণা সরকারের।