সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বৃহস্পতিবার বিকালে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দলীয় কার্যালয়ের বিলবোর্ড ভাঙাকে কেন্দ্র করে রাজ্য-রাজনীতিতে এখনও সরগরম অবস্থা। পুরসভার আধিকারিক-সহ পুলিশ কর্মীরা জোরপূর্বক অভিষেকসহ (Abhishek Banerjee) তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের আটকে রেখে ওই বিলবোর্ড খুলে ফেলা হয় বলেই অভিযোগ। এমনকি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে গতকাল বিচারপতি রাজা বসুচৌধুরীর বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই মামলা অপ্রাসঙ্গিক। তবে এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেই অফিস দখলের অভিযোগ তুললেন মালিকপক্ষ।
অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস দখলের অভিযোগ
বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে চারটা নাগাদ মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের আধিকারিকরা পুলিশ বাহিনী এনে ওই দলীয় কার্যালয়ের বিলবোর্ড খোলার দাবি জানায়। প্রথমে অভিষেকের সঙ্গে তাঁদের বাকবিতণ্ডা হলেও পরে ফিরে এসে তৃণমূল কর্মীদের আটকে রেখেই ওই বিলবোর্ড গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, এমনটাই অভিযোগ তোলেন তৃণমূল সাংসদ। এমনকি তখনই তিনি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বলেও জানান। পাশাপাশি ঐদিন রাতেই ফের পার্টি অফিসের উপরে নতুন ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়। সেই সূত্রে গতকাল হাইকোর্টে দায়ের করা হয় মামলা।
এ বিষয়ে বিচারপতি রাজা বসুচৌধুরীর বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, যেহেতু সাইনবোর্ড ইতিমধ্যেই ভেঙে ফেলা হয়েছে, তাই এই বিষয়ে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া আদালতের পক্ষে সম্ভব নয়। এই মামলার কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই। শুধুমাত্র অনুমানের ভিত্তিতে এ বিষয়ে কোনও নির্দেশিকা জারি করা সম্ভব নয়। কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালনকারী কর্মীদের কীভাবে মামলায় যুক্ত করা যায়? সংশোধন করেই এই মামলা পেশ করতে হবে।
আরও পড়ুন: জঙ্গি আফতাবের সেলে ৩ মোবাইল ফোন সহ একাধিক ডিভাইস, হইচই কাণ্ড প্রেসিডেন্সি জেলে
তবে হাইকোর্টে ঝটকা খাওয়ার পর আজ মালিকপক্ষের অভিযোগের আঙুল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিকেই উঠল। তাঁদের দাবি, জোর করে দুটি ফ্লোর দখল করেছিলেন অভিষেকসহ তৃণমূলের কর্মীরা। এমনকি তৃণমূলকে মালিকপক্ষের আইনজীবী নোটিশ দিয়ে জানিয়েছেন, “দেবরাজ চক্রবর্তীর সইয়ের মাধ্যমে তৃণমূল যুব কংগ্রেস ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস দখল নেয়। আমার মক্কেল রমাদেবী গোয়েঙ্কার সঙ্গে একটা ১০ বছরের লিজ চুক্তিতে সই করেছিলেন ওরা। চুক্তিতে ছিল, সিসি দেওয়ার পর ওরা অফিসের দখল নিতে পারবেন। তবে সিসি দেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও বেআইনিভাবে বিল্ডিং দখল করে বসে আছেন। এখন আমরা নোটিশ পাঠিয়েছি। অ্যাকশন না নিলে থানায় যাব। থানা কিছু না করলে আদালতে যাব।”










