“৭৫ বছর বয়সে আর না দাঁড়ানোই ভালো” নাম না করে মমতাকে পরামর্শ শুভেন্দুর

Published:

Suvendu Adhikari

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলের নাম, প্রতীক সবকিছুই হারিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে উপনির্বাচনে নন্দীগ্রামের পাশাপাশি রেজিনগরেও ক্ষমতা দেখিয়েছে গেরুয়া শিবির। নন্দীগ্রামে তো ১ লক্ষের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছে বিজেপি, অন্যদিকে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগরেও বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন পদ্মপ্রার্থী শাখারভ সরকার। বিজেপির দুই প্রার্থী হাসিরানি রথ এবং শাখারভের শপথগ্রহণ আজ। বিধানসভায় সেই অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়েই মমতাকে চরম আক্রমণ করলেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)।

মমতাকে তুলোধোনা করলেন শুভেন্দু অধিকারী

নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরের প্রার্থীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বিধানসভার মঞ্চে দাঁড়িয়ে এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, “নন্দীগ্রামের জনগণকে ধন্যবাদ। তাঁরা অভিমান করে বলেছিল আমায়, যাতে ভবানীপুর কেন্দ্র ছেড়ে দিই। আমি বলেছি, যিনি দুবার আমার কাছে হেরেছেন, তিনি আবার দাঁড়ানোর সুযোগ পেতেন। এই বয়সে আর না দাঁড়ানোই ভালো। ৭৫ বছর বয়স। এখন বিশ্রাম নেওয়ার কথা।”

আরও পড়ুন: বাজার থেকে কেনা নয়, বাড়িতেই বানান মুচমুচে মুড়ি

প্রসঙ্গত, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম দুই আসন থেকেই লড়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। নিজের ঘরের আসন নন্দীগ্রামে তো জয়লাভ করেছিলেনই, তার পাশাপাশি ভবানীপুরেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে হারান শুভেন্দু। তবে নিয়ম অনুযায়ী যেহেতু একটি আসন তাঁকে ছাড়তে হতো, তাই ভবানীপুরকে হাতে রেখে নন্দীগ্রাম আসন ছাড়েন তিনি। এদিকে প্রত্যাশামতোই নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন শুভেন্দুর নিহত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ।

এদিকে সামনেই পুরভোট। একটি পৌরসভাও হাতছাড়া করতে চাইছে না গেরুয়া শিবির। একেবারে কোমর বেঁধে নামছেন শুভেন্দুরা। সেই সূত্রে পুরভোটের প্রস্তুতির জন্য হলদিয়ায় গিয়েও তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করেছিলেন। সেখানে বলে এসেছিলেন, “৩০টি আসনে একদম বাটি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠাতে হবে খালি হাতে। অনেক ক্ষতি করে দিয়েছে আমাদের। যাতে আর এরকম ক্ষতি না করতে পারে।” তবে এবার বিধানসভার মঞ্চে দাঁড়িয়ে সরাসরি তাঁকে ভোটে না দাঁড়ানোরই পরামর্শ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: বীরভূমের লাভপুরে রামমন্দিরে ভাঙা হল রাম-সীতার মূর্তি

পাশাপাশি একদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় দাঁড়িয়ে আরও বলেন, “হাসিরানির ছেলেকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। ২ কোটি টাকার সুপারি কে দিয়েছিল সেটা জানা বাকি। নির্দেশ কোথা থেকে এসেছিল, কালীঘাট নাকি ক্যামাক স্ট্রিট থেকে এসেছিল? ইতিমধ্যেই সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

google button