প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: শেষ হয়েছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) ভোট গ্রহণ পর্ব, এখন পালা ফলাফল ঘোষণার। ৪ মে জানা যাবে ২০২৬-এ কে সরকার তৈরি করতে চলেছে। আপাতত নজর এখন স্ট্রং রুমে। এদিকে EVM কারচুপি এবং বদলের আশঙ্কা করেছিলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), তাই গতকাল রাতেই বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন শাখাওয়াত মেমোরিয়ালের স্ট্রং রুমে। এবার সেই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ খুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে কড়া পাহাড়ায় মমতা
রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল, বৃহস্পতিবার রাতে, শাখাওয়াত মেমোরিয়ালে গিয়েছিলেন খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ এখানেই ভোট শেষের পর ভবানীপুর বিধানসভা ২৬৭টি পোলিং স্টেশনের ইভিএমগুলি রাখা হয়েছে। তাঁর আশঙ্কা ছিল স্ট্রংরুমে ইভিএম বদল হতে পারে, তাই নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে শাখাওয়াত মেমোরিয়ালের স্ট্রংরুমে যান মমতা। বৃষ্টির মধ্যেই রাত ৮ টায় সেখানে পৌঁছন। প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে ছিলেন ভবানীপুরের স্ট্রং রুমে। অবশেষে, রাত ১২টার পরে ভবানীপুরের স্ট্রং রুম থেকে বেরতেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা নিয়ে স্বভাবতই শোরগোল শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক আঙিনায়।
মমতাকে টার্গেট করে কী বললেন শুভেন্দু?
গতকাল একটি ভিডিয়ো বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে, গণনা কেন্দ্রে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করেছেন তিনি। সব এলাকায় তৃণূমূল কর্মীদের পাহারা দিতে বলেছেন তিনি। নিজেও পাহারা দেবেন বলে জানিয়েছিলেন। এদিকে এই স্ট্রং রুম বিতর্ক নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ খোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি গতকাল রাতেই একটি সিসিটিভি ফুটেজ পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন, “ভবানীপুর নির্বাচনী এলাকা সহ সমগ্র পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোটার ভদ্রমণ্ডলী কে আশ্বস্ত করতে চাই যে এই কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী, মাননীয়াকে কোনোরকম বাড়তি সুবিধা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। উনি যতোই চেষ্টা চালান না কেন, কোনো রকম নিয়ম বহির্ভূত কাজ তিনি করতে পারেননি।”
আরও পড়ুন: উদ্ধার হবে আটকে থাকা টাকা, নতুন পোর্টাল লঞ্চ করল EPFO
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে শুভেন্দু অধিকারী আরও লিখেছেন যে, “উনি যতক্ষণ স্ট্রং রুম প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন, আমার ইলেকশন এজেন্ট অ্যাডভোকেট সূর্যনীল দাস নিজে উপস্থিত থেকে ওনাকে কড়া নজরদারির মধ্যে রেখেছিলেন যাতে উনি কোনো অসৎ উপায় অবলম্বন করতে না পারেন।” অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে যে ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোটগণনার আগে স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে তিনি কোনও আপস করতে রাজি নন। সূত্রের খবর, ফিরহাদ হাকিমও সাখাওয়াত মেমোরিয়াল হাইস্কুলে গিয়েছিলেন। যদিও তিনি স্ট্রংরুমের ভিতরে ঢোকেননি।










