সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলায় (West Bengal) এবার রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি। তবে এই নির্বাচনের ফলাফলের পেছনে শুধুই কি বিজেপির হাত? না, এর পেছনে রয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস-এর (Rashtriya Swayamsevak Sangh) দীর্ঘ এক শতাব্দীর নীরব লড়াই আর তপস্যা। নাগপুরে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে এরকমই দাবী করেছেন আরএসএস-র অখিল ভারতীয় প্রচার প্রধান সুনীল আম্বেকর (Sunil Ambekar)।
বাংলায় জয়ের নেপথ্যে হাত আরএসএস-র
সুনীল আম্বেকর স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ভারতের স্বাধীনতার আগে থেকেই বাংলার মাটির সঙ্গে আরএসএস-র সাংগঠনিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। আরএসএস-র এযাবৎকালের সমস্ত প্রধান এবং সংঘ পরিচালক বাংলার মাটিতে দিনের পর দিন থেকেই কাজ করেছেন, এবং এখানকার চেতনা জাগ্রত করার জন্য একেবারে ঐতিহাসিক ভূমিকাও পালন করেছেন।
তিনি জানান, ১৯২৫ সালে আরএসএস-র প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই বাংলার সঙ্গে সংঘের গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ড. কেশব বলীরাম হেডগেওয়ার নিজেই কলকাতা মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করতেন। আর পরবর্তী সময়ে ১৯৩৯ সালে তিনি পুনরায় কলকাতায় ফিরে এসে বাংলার সংঘের বুনিয়াদ মজবুত করেন। এমনকি সংঘের ইতিহাসে এযাবৎকালে যে ৬ জন প্রধান এসেছেন, তাঁদের প্রত্যেককেই দীর্ঘ সময় বাংলাই কাটিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, আরএসএস-র বর্তমান প্রধান মোহন ভাগবত যখন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, তখন তিনি টানা প্রায় তিন বছর কলকাতার সংঘ কার্যালয়ে থেকে বাংলার প্রত্যন্ত জেলাগুলিতে কাজ করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গে দশকের পর দশক ধরে আরএসএস-র কর্মীদের উপর হওয়া রাজনৈতিক হিংসার কথা স্মরণ করিয়ে আম্বেকর বলেছেন যে, “আমরা বিগত কয়েক দশক ধরেই বাংলায় অত্যন্ত নীরবে এবং প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকেই কাজ করেছি। আমাদের স্বয়ংসেবকদের উপর অমানুষিক হিংসা চালানো হয়েছে। তবে আমরা আমাদের কাজ থামাইনি। আজ বাংলার একদম নিচু তলার এবং বুথস্তরে আমাদের স্বয়ংসেবকদের যে বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে, তা কোনও রকম অলৌকিক ঘটনা নয়, বরং বহু মানুষের আত্মহত্যাগ আর পরিশ্রমের ফল।
আরও পড়ুন: কত দিনের মধ্যে ফর্ম ফিলাপ করলে জুনে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ঢুকবে? ৩০০০ টাকা পেতে জানুন
এদিকে আরএসএস-র দীর্ঘদিনের অবস্থানকে পুনর্ব্যক্ত করে আম্বেকর জানিয়েছেন, সংঘ ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে দেখে। কিন্তু এর মধ্যে কোনও ধর্মীয় বিরোধের সম্পর্ক নেই। তাঁর দাবি, একটি শক্তিশালী এবং সঙ্ঘবদ্ধ হিন্দু সমাজ গড়ে উঠলে দেশের মুসলমান এবং খ্রিস্টান সহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষও সুরক্ষিত থাকবেন আর উপকৃত হবেন। ভারত যদি সামাজিক এবং অর্থনৈতিকভাবে প্রগতিশীল হয়ে ওঠে, তাহলে তার ইতিবাচক সুফল সমগ্র বিশ্ব ভোগ করবে। এমনকি আরএসএস কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে না বলে জানিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের স্বার্থে আরএসএস সম্পর্কে প্রতিনিয়ত ভুল তথ্য ছাড়ায়। আর এই ভুল ধারণা দূর করতে এখন সংঘের তরফ থেকে বিদেশের সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।










