প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতিতে বইছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের গরম হাওয়া। কোন দল এবার সরকার গঠনের লড়াইয়ে শীর্ষে থাকবে তাই নিয়ে চলছে তর্ক বিতর্ক। এমতাবস্থায়, সাগরদিঘির (Sagardighi) রাজনীতি নিয়ে নির্বাচনের পাঁচদিন আগে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন কংগ্রেসত্যাগী তৃণমূল বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস (Bayron Biswas)। শুধু তাই নয়, তিনি এটাও মানলেন যে, কংগ্রেস ছেড়ে অধীরের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। পাল্টা জবাব দিলেন অধীর (Adhir Ranjan Chowdhury)।
তিন মাসের মাথায় দলবদল বায়রনের
২০২৩ সালে বায়রন বিশ্বাস কংগ্রেসে যোগদান করেছিলেন। আর সেই বছরই তৃণমূলের সুব্রত সাহার অকালপ্রয়াণের জন্য সাগরদিঘিতে উপনির্বাচন হয়েছিল। এরপর সবাইকে অবাক করে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে বায়রন মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘিতে জিতেছিলেন। কারণ রাজ্যজুড়ে যেখানে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস দাপটের সঙ্গে রাজত্ব চালাচ্ছে সেখানে দাঁড়িয়ে বাইরনের সেই জয় ছিল দ্বিমেরু রাজনীতিতে বাম-কংগ্রেস সমর্থকদের এক আশার আলো। কিন্তু সবকিছু মুহূর্তে পাল্টে গেল মাত্র তিন মাসের মাথায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করেছিলেন তিনি। এর জন্য কম কটাক্ষ শুনতে হয়নি বায়রনকে। এবার সেই নিয়ে নিজের মুখেই দুঃখপ্রকাশ করলেন তিনি।
কী বলছেন বায়রন বিশ্বাস?
বছর তিনেক আগে উপনির্বাচনে জিতে বায়রনের তিন মাসের মাথায় দলবদলের সিদ্ধান্ত সাগরদিঘির মানুষ যে একদমই মেনে নিতে পারেনি সেটা তাঁর বোঝার বাকি ছিল না, তাই এবার বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আগে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন সাগরদিঘির বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস। এক সাংবাদিক বৈঠকেই তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাসঘাতকতা করেছি। এটা অস্বীকার করব না। আমার রাজনৈতিক হাতেখড়ি অধীর চৌধুরীর হাত ধরে। ওনাকে সারাজীবন মনে রাখব। শ্রদ্ধা করব। উনি আমার গুরুদেব। উনি বড় ভাইয়ের মতো। ছোট ভাইকে নিয়ে কিছু বলতেই পারেন। তাতে আমার দুঃখ নেই। বরং আনন্দ পাই।”
পাল্টা জবাব অধীরের
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে নিয়েও সাংবাদিক বৈঠকে বায়রন বিশ্বাস বলেছেন, “সবাই জয়ী হতে চায়। সবাই আশা নিয়ে নামে। কিন্তু, আমাদের সকলকে সামাজিক পরিষেবা দিতে হবে জনগণকে। সেক্ষেত্রে আমার চেয়ে যদি কেউ ভালো পরিষেবা দিতে পারেন, তবে তাঁকে জয়ী করুন।” এদিকে বায়রন বিশ্বাসের বিশ্বাসঘাতকতা প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরী বলেন, “আমার তো কিছু আর বলার নেই। নিজেই স্বীকার করছে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এখন সেই বিশ্বাসঘাতকের সঙ্গে কীরকম ব্যবহার করা উচিত, সাধারণ মানুষ ঠিক করবে। আমি এইটুকু বলতে পারি প্রার্থী হিসেবে সাগরদিঘিতে মনোজ চক্রবর্তীর তুলনা হয় না।”
আরও পড়ুন: মাধ্যমিকের রেজাল্ট প্রকাশের চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঘোষণা পর্ষদের, জানুন তারিখ
প্রসঙ্গত, অধীর চৌধুরীর সঙ্গে বায়রন বিশ্বাসের সুসম্পর্কের কথা গোটা সাগরদিঘি জানে। এমনকি বায়রন বিশ্বাস তৃণমূলে যোগদান করার পরও কম বেশি তাঁর প্রশংসা করেছিলেন অধীর। অনেকে আবার এও মনে করছেন যে বায়রনের সঙ্গে সুসম্পর্কের জেরেই অধীর চৌধুরী নাকি সাগরদিঘির মতো সংখ্যালঘু আসনে হিন্দু ব্রাহ্মণ মনোজ চক্রবর্তীকে প্রার্থী করেছেন যাতে বায়রনের লড়াইটাই সহজ হয়। যদিও সে কথা মানতে নারাজ অধীর। এখন দেখার সাগরদীঘির বুকে ভবিষ্যতে কে রাজত্ব করতে চলেছে।










