প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: প্রথম দফা ভোটের (West Bengal Election 2026) জন্য হাতে বাকি আর মাত্র ১ দিন, এমতাবস্থায় রাজ্য জুড়ে তৃণমূল নেতা থেকে কর্মীদের গ্রেফতারির কিংবা আটকের সক্রিয়তা দেখা গেল। এবার টার্গেট নন্দীগ্রামের (Nandigram) দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা শেখ সুফিয়ানের জামাই হাবিবুর রহমান। খবর, টাকা বিলির অভিযোগে সোমবার রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় পঞ্চায়েতের প্রধানকে। ঘটনায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলে রাতারাতি থানায় যান তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করও।
ঠিক কী ঘটেছিল?
রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ সোমবার, রাতে নন্দীগ্রামের দাপুটে নেতা শেখ সুফিয়ানের জামাই তথা নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অঞ্চল প্রধান তৃণমূলের আরেক নেতা হাবিবুর রহমানকে আটক করে পুলিশ। অভিযোগ তিনি নাকি ভোটারদের মধ্যে টাকা বিলি করেছেন। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে নন্দীগ্রামে। খবর পেয়ে রাতেই থানায় গিয়েছিলেন নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর। তবে এখনও গ্রেফতারি প্রসঙ্গে পুলিশ কিছু জানায়নি। এমনকি শেষ আপডেট অনুযায়ী জানা গিয়েছে, পুলিশ কোনও টাকা এখনও পর্যন্ত পায়নি হাবিবুরের থেকে।
৮০০ তৃণমূল কর্মীর গ্রেপ্তারির আশঙ্কা নিয়ে মামলা
গতকাল, নির্বাচনের প্রাক্কালে ৮০০ তৃণমূল কর্মীর গ্রেপ্তারির আশঙ্কা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দায়ের করা হয়েছিল সেই মামলা। আগামীকাল অর্থাৎ বুধবার সেই মামলার শুনানি হওয়ার কথা। এদিকে এমন কিছু যে ঘটতে পারে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে, তেমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন ও শশী পাঁজা। তাইতো গতকালই সাংবাদিক বৈঠক করে তাঁরা জানিয়েছিলেন যে আগামী ১৫০ ঘণ্টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এবার তাঁদের সেই আশঙ্কা মিলিয়ে সোমবার রাতেই নন্দীগ্রামে শুরু হল পুলিশের ‘অতিসক্রিয়তা’ অভিযান।
আরও পড়ুন: পরীক্ষা ছাড়াই ধোনির পোস্টে চাকরি! টেরিটোরিয়াল আর্মিতে চলছে নিয়োগ
পুলিশের তরফে এখনও যেহেতু হাবিবুর রহমানের তরফে কোনো টাকা পাওয়া যায়নি তাই শাসকদলের তরফে প্রশ্ন উঠছে যে কেন টাকা বিলির অভিযোগে তাঁকে থানায় তুলে আনা হল? তাঁদের আরও অভিযোগ, নন্দীগ্রামে বিজেপি হারবে, তা বুঝে তৃণমূলকে আটকাতে পুলিশে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। এদিকে জেলা পুলিশ নির্বাচন কমিশনের আওতায়। তাই তারাও বিজেপির অভিযোগের ভিত্তিতে সত্যতা যাচাই না করেই আটক করেছে। গোটা এলাকায় চরম বিশৃঙ্খলাময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।










