নন্দীগ্রামে ফাঁকা মাঠে গোল দেবে বিজেপি? কেউ হতে চাইছে না তৃণমূলের প্রার্থী!

Published:

Nandigram

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নন্দীগ্রামে (Nandigram) প্রার্থী খুঁজতে গিয়ে নাজেহাল তৃণমূল (All India Trinamool Congress)! উপনির্বাচনকে ঘিরে দলের অন্দরে বাড়ছে চাপা অস্বস্তি। এদিকে পবিত্র করের পর এবার শেখ সুফিয়ানও প্রার্থী হতে অনীহা প্রকাশ করায় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কিছুদিন আগেই নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ফলে খুব শীঘ্রই নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় বেকায়দায় পড়ল ঘাসফুল শিবির।

উপনির্বাচনের প্রস্তুতি নন্দীগ্রামে

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, জোড়া কেন্দ্রে কোনও প্রার্থী জিতলে, ফল ঘোষণার ১৪ দিনের মধ্যে যে কোনও একটি আসন তাঁকে ছাড়তে হবে। এদিকে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর এই দুই কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শেষে ভবানীপুরের বিধায়ক পদ রেখে নন্দীগ্রামের বিধায়ক হিসাবে ইস্তফা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম থেকে প্রায় ১০ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাই স্বাভাবিকভাবেই সেখানে উপনির্বাচন হবে। কিন্তু এবার সেই কেন্দ্রে প্রার্থী খুঁজতে গিয়ে নাকানি চুবানি খাচ্ছে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস।

প্রার্থী নিয়ে বেকায়দায় ঘাসফুল শিবির

জানা গিয়েছে, নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী হওয়া থেকে মুখ ফিরিয়েছেন পবিত্র কর। বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর তাঁর এই সিদ্ধান্ত যে স্বাভাবিক সবাই সেটাই মনে করছে। এদিকে পবিত্র কর বেঁকে বসতেই নন্দীগ্রামে দলের পুরনো মুখ শেখ সুফিয়ানের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব সেও ফিরিয়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, “আমি সেই ২০০৬ সালে নন্দীগ্রাম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলাম। এরপর তৃণমূলের কেউ আমাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বলেনি। আমি এখন আর নির্বাচনে আগ্রহী নই। আমি সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছি।”

আরও পড়ুন: বন্দুক-পোজ বিতর্কের পর সাসপেন্ড, এবার নবান্নে দায়িত্ব পেলেন কালীঘাটের ওসি গৌতম দাস

নন্দীগ্রামের উপ নির্বাচনে একে একে প্রার্থী হওয়া থেকে দূরে সরে যেতেই বিপাকে পড়েছে বিরোধী দল। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তৃণমূল নেতা জানিয়েছেন, “প্রার্থী কে হবেন তা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জীই ঠিক করবেন এবং এ বিষয়ে মন্তব্য করার সময় এখনও আসেনি। নির্বাচন ঘোষণার দিন আগে ঠিক হতে দিন।” এদিকে ফলাফলের প্রসঙ্গ তুলে নন্দীগ্রামের সভা থেকে উপনির্বাচনে জয়ের মার্জিন বেঁধে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উল্লেখ্য, কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারীকে নন্দীগ্রামের বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন শুভেন্দু।