ফের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে দুর্নীতি! কাটোয়ায় গ্রামজুড়ে পুরুষদের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছিল টাকা

Published:

Lakshmir Bhandar

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পূর্বতন সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar) কেলেঙ্কারি নিয়ে বিতর্ক যেন কিছুতেই থামছে না, ইতিমধ্যেই একাধিক পুরুষের বিরুদ্ধে মহিলাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। তবে এবার এই নিয়ে আরও বড় অভিযোগ উঠে এল। এক-দু’জন নয়, বছরের পর বছর ধরে প্রায় কাটোয়া এলাকার অন্তর্গত একটা গ্রামে অসংখ্য পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নাকি ঢুকেছে এই সরকারি প্রকল্পের টাকা। শুধু তাই নয়, ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের টাকা নিয়েও হয়েছে নয়ছয়। ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করলে গ্রেফতার করা হয়েছে এক তৃণমূল নেতাকে।

পুরুষ হলেও মিলছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, পূর্বতন সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের কারচুপির অভিযোগ উঠেছে কাটোয়া-১ ব্লকের আলমপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। সম্প্রতি সেখানকার বাসিন্দা দীনেশ অধিকারী কাটোয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে জানিয়েছেন যে, তৃণমূলের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পঞ্চায়েত প্রধান মোল্লা নজরুল ইসলাম ওরফে বাবলু মোল্লা এবং কাটোয়া-১ বিডিও অফিসের ডিপিপি অপারেটর কার্তিক মণ্ডল সরকারি টাকার এক বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারি ঘটিয়েছেন। বছরের পর বছর ধরে সেই গ্রামের পুরুষদের পাইয়ে দেওয়া হতো প্রকল্পের ১২০০ টাকা। আর তার পরিবর্তে, উপভোক্তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা আদায় করতেন তাঁরা।

গ্রেফতার তৃণমূল নেতা

অভিযোগকারী জানিয়েছেন, বেআইনিভাবে সেই গ্রামের বাসিন্দা বাপ্পা মণ্ডল, সুখেন মণ্ডল, কুশল ঘোষ, নীলরতন ঘোষের মতো বেশ কয়েকজন পুরুষের অ্যাকাউন্টে ঢুকত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। এছাড়াও কৃষক বন্ধু প্রকল্পের বিরুদ্ধেও উঠে এসেছে ঝুরি ঝুরি আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ। জানা গিয়েছে, রিনা মণ্ডল, চিন্তাময়ী মণ্ডল, নমিতা মণ্ডলের মতো বহু মহিলার অ্যাকাউন্টে নাকি কৃষক বন্ধুর টাকা নিয়মিত ঢুকছিল। কিন্তু তাঁদের নামে আদতে কোনও চাষের জমিই নেই। আর এই নজিরবিহীন দুর্নীতির খবর পাওয়া মাত্রই তদন্তে নামে কাটোয়া থানার পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় তৃণমূল নেতা বাবলু মোল্লাকে।

আরও পড়ুন: বারুইপুরে ইন্দ্রজিতের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী, আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি নিহতের দাদাকে চাকরি

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাওয়ার কথা ইতিমধ্যেই স্বীকার করে নিয়েছেন গ্রামের এক যুবক। তবে পুলিশ বাবলু মোল্লাকে গ্রেফতার করলেও বিডিও অফিসের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর কার্তিক মণ্ডল পলাতক। তাই, তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। অভিযোগ, তিনিই নাকি ভুল বুঝিয়ে লোভ দেখিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে তাঁদের অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাইয়ে দিত। গতকাল, শুক্রবার ধৃত বাবলুকে কাটোয়া আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।