নীল-সাদা অতীত! স্কুলের পুরোনো ইউনিফর্ম ফেরায় ব্যাপক খুশি পড়ুয়ারা

Published:

School Uniform

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে ক্ষমতার রদবদল হতেই বাংলা জুড়ে একের পর এক পরিবর্তন হয়েই চলেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে। একাধিক জায়গায় খুলছে কর্মসংস্থানের জট যেমন কাটছে ঠিক তেমনই চালু হচ্ছে একাধিক প্রকল্প। আর এবার সরকারের নজরে পড়ল রাজ্যের স্কুল পড়ুয়াদের ইউনিফর্ম (School Uniform) বা পোশাক। জানা গিয়েছে, সাদা নীল অতীত, এবার ফিরে আসতে চলেছে প্রতিটি স্কুলের নিজস্ব পোশাক। আর তাতেই ব্যাপক খুশি পড়ুয়ারা।

বদলে দেওয়া হয়েছিল স্কুলের ইউনিফর্ম

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২০ মার্চ পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের তরফেনির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও স্পনসরড স্কুলের প্রাক-প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছাত্রীদের জন্য নেভি ব্লু ও সাদা রঙের ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক হবে। এমনকি সেই শার্ট বা কামিজে ‘বিশ্ব বাংলা’ লোগো ব্যবহারও বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। আসলে ওই সময় সরকারের যুক্তি ছিল, সব স্তরের পড়ুয়াদের মধ্যে বৈষম্য দূর করা। কিন্তু রাজ্যের ক্ষমতা পরিবর্তন হতেই এবার সেই নিয়ম বাতিল হতে চলেছে।

নয়া নির্দেশিকা প্রশাসনের

সম্প্রতি স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে সব জেলার প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্তরের স্কুল পরিদর্শকদের স্কুলভিত্তিক ইউনিফর্ম তৈরিতে কাপড়ের ধরন এবং রঙের চাহিদার সমীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই পড়ুয়াদের ইউনিফর্মের সঠিক মাপ এবং প্রয়োজনীয় কাপড় ও ওড়নার মোট চাহিদা নির্ধারণের জন্য ‘বাংলার শিক্ষা’ পোর্টালে বিশেষ বিভাগ চালু করা হচ্ছে। ওই পোর্টালেই আগামী ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত তথ্য আপলোড করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। আসলে প্রায় সব সরকারি স্কুলের পোশাকের রঙ এক হওয়ায় ধাক্কা খেয়েছিল স্কুলগুলির স্বতন্ত্র পরিচয়। এই নিয়ে আগেও অনেক অভিযোগ উঠলেও সমাধানের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এবার বদল হবে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে ভারতের মানচিত্র ভুল দেখানোয় ওঠেন ফুঁসে, জানুন কে এই IFS পূজা কুমারী ঝাঁ

নয়া রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে খুশি স্কুল পড়ুয়া, অভিভাবক থেকে শুরু করে শিক্ষক শিক্ষিকারা। তাঁদের মতে বহু বছর পরে পোশাকের রঙ নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্রতা রক্ষা করতে পারবে রাজ্যের স্কুলগুলি। বাঁকুড়ার এক প্রধান শিক্ষক সুজিত সিংহ মহাপাত্র জানিয়েছেন, “আগে স্কুলই পোশাকগুলি কিনে নিত। কিন্তু পরে অন্য জায়গায় গিয়ে মাপ দিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হয়। তখন অনেক পড়ুয়া অনুপস্থিত থাকত, ফলে সাইজের ক্ষেত্রে সমস্যা হত। তবে বর্তমান সরকারের এই নয়া সিদ্ধান্ত অনেকটাই সমস্যার সমাধান করবে।”