সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দলে ভাঙনের পর ভাঙন। কোথাও নেতা, মন্ত্রী, বিধায়করা পদত্যাগ করছেন, আবার কাউকে কাউকে নিজেরাই বহিষ্কার করছে তৃণমূল (Trinamool Congress)। এবার এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা এবং উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহিষ্কার করে দিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। সূত্রের খবর, সই জালিয়াতি বিতর্কে এই দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল। এমনকি দল বিরোধী কাজের অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
সই কাণ্ডে বিতাড়িত সন্দীপন এবং ঋতব্রত
উল্লেখ্য, বিধানসভায় তৃণমূলের সই জালিয়াতি কাণ্ড নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই তোলপাড়। কুণাল ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রনাথ সিনহা সহ একাধিক বিধায়কের বাড়িতে সিআইডি হানাও দিয়েছিল। এমনকি প্রত্যেককে নোটিশ ধরানো হয়েছে। তবে এই নিয়ে সোমবার দুপুরে নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত এবং সন্দীপন লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন স্পিকারকে। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে বিধানসভার সবিচালয়ের তরফ থেকে হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করা করা হয়।
শুভেন্দু অধিকারী জানান, পুলিশ মন্ত্রী হিসেবে তাঁর কাছে এই বিষয়টা আসার পরেই তিনি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। আর সবকিছুর মূলে এই দুই বিধায়ক। সেই সূত্রে সাংবাদিক বৈঠক শেষ হওয়ার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই তৃণমূলের উলুবেরিয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আর এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করে দিয়েছে দল।
আরও পড়ুন: মেসি কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কায় অগ্রিম জামিনের আবেদন অরূপ বিশ্বাসের!
সন্দীপন সাহা বলেন, “যারা অনৈতিকভাবে কাজ করে, দল তাঁদেরকে সমর্থন করে। আর যারা নৈতিকভাবে কাজ করে, দল তাঁদেরকে বহিষ্কার করে দেয়। আমরা জানতামই না, একটা হাজিরা খাতায় সইকে প্রস্তাবের সই বলে চালানো হবে।” উল্লেখ্য, বর্তমানে তারা দলহীন হিসেবেই থাকবেন। এমনকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে আগেও ঘটে এমন ঘটনা। ২০১৪ সালে তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ করার পর ২০১৭ সালে বিভিন্ন অভিযোগে তাঁকে বহিষ্কার করে দিয়েছিল সিপিএম। কিন্তু তাঁর মেয়াদ ছিল ২০২০ সাল পর্যন্ত। তারপর তিন বছর তিনি রাজ্যসভায় দলহীন সাংসদ হিসেবেই ছিলেন। আর এবারও দলহীন বিধায়ক হিসেবেই তাঁরা দায়িত্ব সামলাবেন।










