ছট পূজা ২০২৬ কত তারিখে? দেখুন দিনক্ষণ ও ব্রত পালনের নিয়ম

Published:

Chhath Puja 2026

সৌভিক মুখার্জী, তারাপীঠ: এ বছর ছট পূজা কত তারিখে (Chhath Puja 2026)? সূর্যদেব এবং ছটি মাইয়াকে উৎসর্গ করার উদ্দেশ্যে এই প্রাচীন উৎসবটি পালন করেন লক্ষ লক্ষ ভক্ত। তবে এই পূজা টানা চারদিন ধরে পালন করা হয় এবং ভক্তরা উপবাস করে থাকেন। তবে এ বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের ছট পূজার দিনক্ষণ, সময়সূচি, তিথি-নক্ষত্র এবং নিয়মকানুন সম্পর্কে জানতে পড়ুন প্রতিবেদনটি।

ছট পূজা ২০২৬ (Chhath Puja 2026)

প্রথমেই জানিয়ে রাখি, ছট পূজা হল একটি প্রাচীন হিন্দু উৎসব, যা মূলত সূর্যদেব এবং ছটি মাইয়ার উপাসনার জন্যই পালিত হয়। আর এই পূজার প্রধান দেবতা হলেন সূর্যদেব এবং তাঁর পত্নী ঊষা-প্রত্যুষা এবং ছটি মাইয়া। দীপাবলীর ৬ দিন পর কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে এই পূজা হয়। এছাড়া চৈত্র মাসেও চৈতি ছট হিসেবে পালিত হয়। বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং উত্তরপ্রদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় এই উৎসব। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ এবং নেপালেও এটি ধুমধাম করে পালিত হয়।

ছট পূজা ২০২৬ কত তারিখে? (Chhath Puja 2026 Date And Time)

আগেই বলেছি, ছট পূজা ৪ দিন ধরে পালিত হয়। সেই সূত্রে এ বছর ছট পূজা পড়ছে—

  • প্রথম দিন ১৩ নভেম্বর শুক্রবার।
  • দ্বিতীয় দিন ১৪ নভেম্বর শনিবার।
  • তৃতীয় দিন ১৫ নভেম্বর রবিবার।
  • চতুর্থ দিন ১৬ নভেম্বর সোমবার।

বিষয়

তথ্য

উৎসবের নাম

ছট পূজা ২০২৬

ইংরাজি তারিখ

১৩ থেকে ১৬ নভেম্বর ২০২৬
বাংলা তারিখ

২৬ থেকে ২৯ কার্তিক, ১৪৩৩

প্রধান মাহাত্ম্য

সূর্যদেব ও ছটি মাইয়াকে অর্ঘ্য প্রদান

কোথায় প্রচলিত

বিহার, উত্তরপ্রদেশ, বাংলা

ছট পূজার প্রথম দিন পালনের নিয়ম

ছট পূজার প্রথম দিন ব্রতধারী মহিলা নদী, পুকুর বা বাড়ির পরিষ্কার জলে স্নান করেন। এরপর নতুন পোশাক পরে রান্নাঘর ও বাইরের চারপাশ পরিস্কার করেন। তবে এই দিনটিতে সাধারণত সাত্ত্বিক খাবার গ্রহণ করা হয়। পেঁয়াজ-রসুন ছাড়াই সবকিছু রান্না করার নিয়ম প্রচলিত রয়েছে। সাধারণ লবণের পরিবর্তে সৈন্ধব লবণ ব্যবহার করা হয়। গোটা পরিবার সাধারণত এই দিন একই খাবার খায়।

দ্বিতীয় দিন পালনের নিয়ম

ছট পূজার দ্বিতীয় দিন ব্রতধারী মহিলা সারাদিন জল পান না করে উপবাস করেন এবং সূর্যাস্তের পর পূজা সম্পন্ন হলে উপবাস ভঙ্গ করেন। ঐতিহ্যগতভাবে পূজার শুরুতে সূর্যদেব এবং ছটি মাইয়াকে গুড় ও চাল দিয়ে তৈরি ক্ষীর, রুটি এবং একটি কলা নিবেদন করতে হয়। পাশাপাশি প্রসাদ ভাগ করে নেওয়ার জন্য পরিবার বা প্রতিবেশীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এমনকি ব্রতধারী মহিলাকে এই দিন থেকে টানা ৩৬ ঘণ্টা নির্জলা উপবাস শুরু করতে হয়।

তৃতীয় দিন পালনের নিয়ম

এটিই হচ্ছে মূল দিন। সকাল বেলা নৈবেদ্য সাজানোর কাজ বা অন্যান্য কাজে কেটে যায়। এরপর বিকেল নাগাদ ঘাটে গিয়ে সূর্যদেবের প্রার্থনা করতে হয়। বিহার বা পূর্ব উত্তরপ্রদেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে এদিন একটি ডালা নিয়ে ঘাটে যাওয়ার প্রথা প্রচলিত রয়েছে। ব্রতধারী মহিলা পশ্চিম দিকে মুখ করে জলে দাঁড়িয়ে অস্তগামী সূর্যকে অর্ঘ্য দিয়ে থাকেন। তার পাশাপাশি জল ও দুধ অর্পণ করেন। এমনকি রাতের দিকে অনেক পরিবার আখের ডাটার ছাউনির নিচে মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে জাগরণ পালন করেন।

চতুর্থ দিন পালনের নিয়ম

এই দিনটিতে গোটা পরিবার ভোর হওয়ার আগেই ঘাটে ফিরে আসে। ব্রতধারী মহিলা পূর্বদিক মুখ করে জলে দাঁড়িয়ে উদীয়মান সূর্যকে অর্ঘ্য দান করে থাকেন এবং এর মাধ্যমে আগের সন্ধ্যায় শুরু হওয়া চক্র সম্পন্ন হয়। সন্তান এবং পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবনের জন্য এদিন প্রার্থনা করা হয়। তারপর প্রসাদ বিতরণ করতে হয়। সবশেষে জল এবং সামান্য প্রসাদ দিয়ে ব্রতধারী ৩৬ ঘণ্টার উপবাস ভঙ্গ করেন।

আরও পড়ুন: ভাইফোঁটা ২০২৬ কত তারিখে? দেখুন দিনক্ষণ, সময়সূচি ও ফোঁটার নিয়ম

ছট পূজার নিয়মকানুন এবং শিষ্টাচার

ছট পূজা পালনের জন্য অবশ্যই কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। তাহলেই মেলে মোক্ষলাভ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—

  • ঘাটের প্রবেশপথ দিয়ে খালি পায়ে হাঁটার চেষ্টা করতে হবে এবং চামড়ার তৈরি জিনিসপত্র বিশেষ করে জুতো, বেল্ট বা ব্যাগ সঙ্গে নেবেন না।
  • সাবধানে পা ফেলা উচিত। কখনোই আড়াআড়ি ভাবে হাঁটবেন না।
  • অন্য পরিবারের দেওয়া নৈবেদ্য বা অর্ঘ্য স্পর্শ করবেন না এবং নিজের অর্ঘ্য সম্পন্ন না হওয়ার আগে কোনও প্রসাদ গ্রহণ করবেন না।
  • নদী বা পুকুরে সাবান, শ্যাম্পু বা তেল ফেলবেন না। এমনকি অর্ঘ্যের মধ্যে প্লাস্টিক, থার্মোকল বা কোনও কৃত্রিম জিনিস রাখবেন না।
  • ভিড় জমার আগে ঘাটের যে অংশটি আপনার পরিবারের জন্য বরাদ্দ, তা দখল করে পরিষ্কার করুন।
  • অর্ঘ্য সর্বোচ্চ কোমর সমান জলে দাঁড়িয়ে প্রদান করতে হয়। বেশি জলে যাওয়ার দরকার পড়ে না।
  • ব্রতধারী মহিলার অবশ্যই নতুন এবং প্রথা অনুযায়ী সেলাইবিহীন পোশাক পরা উচিত।