বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: 2024 সালে আমেরিকার নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন জেলা আদালতে দায়ের হওয়া মামলায় অব্যাহতি পেয়েছেন আদানি গ্রুপের (Adani Group) প্রতিষ্ঠাতা গৌতম আদানি। আর তারপর পরই এবার বিরাট ঘোষণা করলেন আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান। গৌতম আদানি জানিয়েছেন, আদানি গ্রুপ ইতিমধ্যেই আমেরিকার আইনি চ্যালেঞ্জগুলিকে পেছনে ফেলে শক্তি, পরিবহন, সরবরাহ এবং ডিজিটাল কাঠামো খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। সবচেয়ে বড় কথা, আদানি গ্রুপ এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ভিত্তিক খাতে বিনিয়োগ করতে চলেছে। সে কথা একেবারে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান গৌতম আদানি।
AI দুনিয়ায় ঝড় তুলতে চলেছেন গৌতম আদানি!
সম্প্রতি শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশ্যে লেখা একটি চিঠিতে গৌতম আদানি জানিয়েছেন, গত বছর ব্যাপক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও তাদের গোষ্ঠী ব্যবসা সম্প্রসারণের দিকে মনোনিবেশ করেছিল। আদানি গ্রুপ মার্কিন আইনি জটিলতা কাটিয়ে উঠেছে। এবার বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।
গৌতম, আদানি গ্রুপের ফ্লাগশিপ আদানি এন্টারপ্রাইজের 24,930 কোটি টাকার রাইটস ইস্যুটিকে বিনিয়োগকারীদের আস্থার মূর্ত প্রতীক বলেই বর্ণনা করেছেন। আদানি আরও বলেন, “বিশ্বে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বেড়েই চলেছে। সেই সাথে জ্বালানির নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চ্যালেঞ্জ। তবে আদানি গ্রুপ ক্রমাগত শক্তি, পরিবহন, সরবরাহ, ইউটিলিটি এবং শিল্প উৎপাদন খাতে তাদের প্রকল্পগুলি পরিচালনা করে আসছে।”
এদিন মার্কিন মামলার কথা স্মরণ করিয়ে গৌতম আদানি বলেছিলেন, আদানি গ্রুপ মূলত ইনফ্রা এবং ইন্টেলিজেন্স ইন্ডাস্ট্রিতে মনোনিবেশ করছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন, ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক, ডেটা সেন্টার এমনকি লজিস্টিক ইনফ্রাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। তাঁর স্পষ্ট দাবি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর কথা ভাবার আগে এর জন্য শক্তিশালী পরিকাঠামো গড়ে তোলা দরকার।
অবশ্যই পড়ুন: ৮০-র মধ্যে এলেন মাত্র ২০ বিধায়ক, কালীঘাটের বৈঠক বাতিল করতে বাধ্য হলেন মমতা
জানা যাচ্ছে, ডিজিটাল ইনফ্রার ক্ষেত্রে সংস্থাটি 2030 সালের মধ্যে দ্বি-গিগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ডাটা সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা করছে। এছাড়াও সংস্থাটি বিশাখাপত্তনামে একটি বিরাট ডেটা সেন্টার প্রকল্পের জন্য গুগলের সাথে মোটা টাকার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। পাশাপাশি লজিস্টিক সেক্টরে আদানি বন্দর এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রত্যেক বছর এই সংস্থা 50 কোটি টনেরও বেশি কার্গো পরিচালনা করে থাকে। বিশেষজ্ঞ মহলের অনেকেই মনে করছেন, আদানি গোষ্ঠী অন্যান্য সমস্ত খাতের পাশাপাশি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স খাতে প্রবেশ করলে একেবারে ঝড় তুলে দেবে।










